অমিত হাসান বাংলাদেশের ৯০ এর দশকের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। এর পরে তিনি প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯০ সালে ছটকু আহমেদ পরিচালিত চেতনা ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। একক নায়ক হিসেবে মনোয়ার খোকনের জ্যোতি ছবি দিয়ে শুরু হয় তার সফলতা। ২০১২ সালে ভালোবাসার রঙ ছবির মাধ্যমে তিনি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে পুনরায় নির্বাচন করেন কিন্তু মিশা-জায়েদ পরিষদের কাছে হেরে যান।
আজ এই অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৬৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার অন্তর্গত বানিয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম খন্দকার সাইফুর রহমান। এবারের জন্মদিনে তিনি রয়েছেন কলকাতায়। সেখান থেকেই কথা হলো জাগো নিউজের সঙ্গে। জানালেন জন্মদিন নিয়ে নানা কথা-

প্রতিবেদক : শুভ জন্মদিন ভাই....
অমিত হাসান : অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

প্রতিবেদক : তা জন্মদিনে হঠাৎ দেশের বাইরে....
অমিত হাসান : এসেছি একটা কাজেই। কলকাতায় নতুন একটি সিনেমার কথা চলছে। তার জন্যই আসা। তবে পরিবার সঙ্গে নিয়ে এসেছি। তাদের নিয়ে একটু অবকাশ যাপন করছি সেটাও বলতে পারেন।

প্রতিবেদক : জন্মদিনে বিশেষ কোনো প্ল্যান?
অমিত হাসান : তেমন কিছু নয়। স্ত্রী-বাচ্চারা সঙ্গে আছে। ভালে লাগছে। কিছু পরিচিত মানুষজন আছেন কলকাতায়, তারা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। পরিচিতজন, বন্ধুরা দেশ থেকে শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন। এই তো। তাছাড়া আমি জন্মদিনে তেমন করে পার্টি করাও হয় না।

প্রতিবেদক: জন্মদিনে বিশেষ কোনো স্মৃতি?
অমিত হাসান : অনেক স্মৃতিই মনে পড়ে। জীবনের একেকটা স্টেজে একেক রকম জন্মদিন এসেছে। সবগুলোই সুন্দর। তবে জন্মদিনের একটি বিশেষ স্মৃতি মনে পড়ে খুব। একদিন শুটিং করে বাসায় এসে দেখি পুরো বাড়ি অন্ধকার। আমি তো ভয় পাচ্ছিলাম। খারাপ কিছু হলো কী না ভেবে। হঠাৎ করে লাইট জ্বলে উঠলো। ফুল ঝরে পড়লো। দেখি আমার বৌ-বাচ্চা কেক নিয়ে ডাইনিং রুমে বসে আছে। খুব আনন্দ পেয়েছিলাম।

প্রতিবেদক : জন্মদিনে বিশেষ কাউকে মিস করেন?
অমিত হাসান : মাকে। প্রতিটি জন্মদিনেই মাকে খুব মিস করি। এই হাহাকার বোধ করি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাটবে না। আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই সবার কাছে।

প্রতিবেদক: এবার নতুন কাজের খবর বলুন। নতুন কী ছবি আসছে?
অমিত হাসান : ওই যে বললাম কলকাতায় এসেছি একটি ছবির ব্যাপারে আলাপ করতে। সবকিছু ফাইনাল হলে জানাবো। এর বাইরে কিছু ছবি তো রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়।


উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে ’নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র চেতনা। ছবিটি পরিচালনা করেন ছটকু আহমেদ। একক নায়ক হিসেবে তিনি প্রথম অভিনয় করেন মনোয়ার খোকনের জ্যোতি চলচ্চিত্রে। এই দশকে তিনি শেষ ঠিকানা, জিদ্দী, আবিদ হাসান বাদলের বিদ্রোহী প্রেমিক (১৯৯৬) ও তুমি শুধু তুমি (১৯৯৭), রাজ্জাকের বাবা কেন চাকর (১৯৯৭), শিল্পী চক্রবর্তীর রঙিন উজান ভাটি (১৯৯৭), মোতালেব হোসেনের ভালবাসার ঘর (১৯৯৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।