বলিউড সুন্দরী সুষ্মিতা সেন। ৮ থেকে ৮০ সবাই তার জন্য দিওয়ানা। তাকে পাওয়ার জন্য অনেকেই মড়িয়া হয়ে আছেন অনেকেই।এখনো পর্যন্ত বলিউডের একজন গর্বিত সিঙ্গল মাদার তিনি।বিয়ে না করে বাচ্চা দত্তক নিয়ে তিনি রয়েছেন মা হিসেবে অবিবাহিতদের তালিকায়।বিয়ে না করেও একেরপর এক পুরুষের সঙ্গে সুস্মিতা সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায় বলিউডের অন্দরে কান পাতলেই। বর্তমান সময়ে সুষম্মিতা সেনকে তেমন একটা বলিউড সিনেমায় দেখা না গেলেও নানা কারনে খবেরর শিরোনামে থাকেন তিনি। এবার তিনি শিরোনামে এসেছেন তার পুরোনো প্রেমিক বিক্রম ভাটের জন্য।সুস্মিতা সেনের জন্য ছোটবেলার বান্ধবী-স্ত্রীকে মুহূর্তে ডিভোর্স দেন বিক্রম ভাট। কিছুদিন পর সুস্মিতা সেনের সঙ্গেও বিচ্ছেদ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। সুষ্মিতাকেও হারিয়েছেন তিনি এর পর স্ত্রীর জন্য করছেন অনুতাপ।এর শুরু করেন অন্য আরেক নায়িকার সাথে, তার সাথে ব্রেকাপ হবার পর, পাঁচ বছর আমিশা পাটেলের প্রেমে ডুবেছিলেন তিনি।
তারপর আমিশার সঙ্গেও বিচ্ছেদ। বলছিলাম বলিউডের স্বনামধন্য পরিচালক বিক্রম ভাটের কথা। তার লাভ লাইফ যেন রোলার কোস্টার। কেরিয়ারে যত জনপ্রিয়তার শিখরে উঠেছেন তিনি, ব্যক্তিগত জীবন তার ততই শূন্য রয়ে গেছে।


বিক্রমের জন্ম গুজরাটে। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি সিনেমার সঙ্গে যুক্ত। খুব কম বয়সেই বিয়ে করে নেন ছেলেবেলার বান্ধবী অদিতিকে।

স্ত্রী অদিতি এমনিতেই শ্বশুরবাড়িতে তার যোগ্য সম্মান পেতেন না বলে অভিযোগ ছিল। বিক্রমের কাছ থেকেও কোনওদিন সেভাবে সমর্থন পাননি। শুধু মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিক্রমের কাছে পড়ে থাকতেন তিনি। এর মধ্যেই তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ বিক্রমের জীবনে।

বিক্রমের বয়স তখন ২৭ বছর, আর বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতার ২০। ফিল্ম ’দস্তক’-এর শুটিংয়ের সময়ই দু’জনের পরিচয়। সেই থেকেই তাদের প্রেমও। ইন্ডাস্ট্রিতে এই নিয়ে চূড়ান্ত কানাঘুষা শুরু হয়।

স্ত্রী অদিতি এই বিষয়টি আর মেনে নিতে পারেননি। দু’জনের মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হয়। ডিভোর্স হয় তাদের। কিন্তু ডিভোর্সের আগে প্রচণ্ড কাদা ছোঁড়াছুড়ি হয় একে অপরের উদ্দেশ্যে। এই পরিণতির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন তারা।

বিক্রম তখন সুস্মিতা সেনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ফলে অদিতিকে ডিভোর্স দেওয়াটা তার কাছে বেশ খুশির বিষয়ই ছিল। ভেবেছিলেন বোধহয়, বাকি জীবনটা সুস্মিতার সঙ্গে কাটাবেন। অন্যরকম একটা জীবন পাবেন।

কিন্তু তার সে ইচ্ছাও পূর্ণ হয়নি। ছোটবেলার বান্ধবী তথা স্ত্রী অদিতিকে ডিভোর্স দেওয়ার পর পরই সুস্মিতার সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়। নানান বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতপার্থক্য শুরু করে।

শেষমেশ সুস্মিতা সেনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভাঙন ঘটে। ততদিনে স্ত্রী এবং মেয়ের জন্যও অনুশোচনা হচ্ছিল তার। স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে তিনি ঠিক করেননি, বারবারই তার মনে হচ্ছিল। একটা সাক্ষাৎকারে এ কথা নিজেই বলেছিলেন বিক্রম।

অবসাদ কাটাতে, ভাল থাকার জন্য আরও বেশি ফোকাস করেন কেরিয়ারে। তখন ’আঁখে’ ফিল্মের শুটিং শুরু করেন তিনি। মুখ্য চরিত্রে নেন আমিশা পাটেলকে। দু’জনের সম্পর্ক ক্রমে আরও গভীর হতে শুরু করে।

আমিশাকে পাগলের মতো ভালবাসার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন বিক্রম। আমিশা বা বিক্রম দু’জনেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে খুব খোলামেলা কথা বলতেন। ’আমিশা কেরিয়ারের জন্য দৌঁড়চ্ছে, আর আমি ওঁর জন্য’, বিক্রম নিজেই স্বীকার করেছিলেন। পাঁচ বছর তারা একসঙ্গে ছিলেন।

কিন্তু সেই সম্পর্কও টেকেনি। দু’জনের ব্রেকআপ হয়। পরে বিক্রম জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে নাকি কোনও ভালবাসাই ছিল না। ভাল বন্ধুত্বটাকে ভালবাসা বলে নাকি দু’জনেই ভুল করেছিলেন। পরে সেই ভুল বুঝতে পেরেই তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।


প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিক্রমের লেখা উপন্যাস ’আ হ্যান্ডেল অব সানশাইন’ প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাস লেখার জন্য ব্যক্তিগত জীবন থেকে নিয়েই লিখেছেন তিনি। তবে সেখানে সুস্মিতা সেন সম্পর্কে সরাসরি কোনও ঘটনার উল্লেখ নেই। জানা যায় এক সময় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বিক্রম। তবে সুস্মিতার সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে নয়। সেই ইচ্ছে হয়েছিল নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে, আত্মদংশনে। যদিও হতাশার সে পথ থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। এসব কথা ভারতীয় একটি ওয়েবসাইটের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বিক্রম।