চঞ্চল মাহমুদ, বাংলাদেশের মডেল ফটোগ্রাফির অগ্রপথিক হিসেবে যাকে সবাই চেনেন। কিন্তু এ পরিচয়ে আবদ্ধ হতে চান না তিনি। তাই নিজেকে একজন ভার্সেটাইল ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশের অনেক তারকার তারকা হয়ে ওঠার পেছনে যে মানুষটির ভূমিকা অনন্য, তিনি চঞ্চল মাহমুদ। সালমান শাহ, নোবেল, পল্লব, সুইটি, তানিয়া, শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত, আফসানা মিমি, মৌসুমী, শাবনূর, পপির মতো আরও অনেক তারকা যার কাছে প্রথম ছবি তুলে নিজেকে তারকা হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যান তিনিই চঞ্চল মাহমুদ।তবে আজ বড়ই নি:স্ব এই মানুষটি।
বর্তমানে এই মানুষটিই চরম বিপর্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন সাহায্যের আবেদনও। তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু দেয়া হলো।

’আজকে আমার মনটা ভীষণ খারাপ। আমার প্রিয় ফেসবুক বন্ধুরা আজকে অনেক কষ্ট নিয়ে আপনাদের লিখছি। আমার স্ত্রী রায়না মাহমুদ মিতুর শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আর এজন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আর আমারও এ পর্যন্ত ৩ বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। আমারও চিকিৎসা চলছে। এই ১২ বছরে আমাদের সবকিছুই শেষ। আমাদের ২ জনের চিকিৎসা চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না। অনেক টাকাই দরকার মিতুর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য। কয়েকদিনের মধ্যে মিতুকে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

তাই আমার প্রিয় বন্ধুরা – আমাদেরকে আর্থিকভাবে যারা সাহায্য করতে চান, তারা দয়া করে যোগাযোগ করবেন এই নম্বরে: চঞ্চল মাহমুদ: ০১৭১১৫২২১২৬। একাউন্ট নাম: চঞ্চল মাহমুদ ফটোগ্রাফি, ব্যাংকের নাম: ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ধানমণ্ডি শাখা, ব্যাংক একাউন্ট নম্বর: ২০৫-১০০-৮৯৬২।

এতদিন মানুষকে সাহায্য করেছি। আজকে আমি নিঃস্ব বন্ধুরা। আমরা দুই জনই এতিম, ভাই-বোন কেউই নাই। এছাড়া আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই মহা বিপদের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমার বয়স এখন ৬৪ বছর আর মিতুর বয়স ৫০ বছর। ৪৮ বছর ফটোগ্রাফি করেছি। কত স্টার, সুপার স্টার আর মেগা স্টার তৈরি করেছি। কিন্তু রয়ে গেছি অন্তরালে। চিকিৎসা খরচ বহন করতে করতে আজকে নিঃস্ব আমি। বন্ধুরা দয়া করে সাহায্য করুন।’


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মডেল ফটোগ্রাফির সর্বপোরি সব থেকে বড় ক্যামেরাম্যান হিসেবে যাকে সবাই চেনেন জানেন তিনি চঞ্চল মাহমুদ। কিন্তু আজ আর তার এই পরিচয়ে হচ্ছে না কোন কাজ। একজন অসহায় মানুষের মত জীবন যাপন করছেন। টাকার অভাবে যে মানুষ কত অসহায় হয়ে যেতে পারে তার অন্যতম উদাহারন। এখন জনসাধারনের সহ সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।