রওনক হাসান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পি। এ পর্যন্ত অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অসংখ্য নাটক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে দর্শদের কাছে। সেই সুবাদে বেশ জনপ্রিয় একজন নাট্য তারকা তিনি। রওনক হাসান বিচিন্ন সময়ে সমমসাময়িক অনেক বিষয় নিয়ে ফেসবুকে বেশ সরব ভুমিকা পালন করে থাকে। সমসাময়িক অনেক বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে লেখার মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যক্ত করে থাকেন। সম্প্রতি সময়ে বুয়েটে ঘটে যাওয়া বিষয়টি নিয়েও তিনি নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
আবরার মেধাবী মেধাবী বলে এই যে সবাই চেঁচাচ্ছে এটার মানে ঠিক বুঝলাম না। সে বুয়েটে না পড়ে ছাগলনাইয়া কলেজে পড়লেও কি বিষয়টা একই না! একজন মানুষকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। দেশের আনাচে কানাচে কতো আবরার এভাবে মরে যায়। যা সিসিটিভির আওতার বাইরে।

আমরা অধিকাংশ মানুষ চোর। সুবিধাভোগী। নকল দেশপ্রেমিক। ভণ্ড মানবতাবাদী। অমুক বিচার চাই তমুক বিচার চাই। এসব বলে বলে, লিখে লিখে কেউ কি ক্লান্ত হয় না! আমার ইদানিং ভীষণ ক্লান্ত লাগে! কি হবে এসব লিখে! বলে! আসলে আমি এসব বলে কাকে, কাদের দেখাতে চাই! বোঝাতে চাই যে আমি একজন অমুক ...তমুক ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমার জীবনযাপনে এখনো অসংখ্য ভুল। ব্যক্তিত্বের বোধের অনেক জায়গা জুড়ে শূন্যতা ...ফাঁপা ...যা অনেক যত্ন করে আমি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। সবসময়তো পারা যায় না। তখন কেউ না কেউ দেখে ফেলে। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে তখন তারা মুচকি হাসে। আমি মস্তক অবনত করি আর ভাবি... ধুর জেনে গেলো সব! নিজেকে বলি, নাহ...নিজেকে ঠিক করে তবেই আমি অন্যের বিষয়ে নাক গলাবো। নিজে মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে অন্যকে মিষ্টি খেতে নিষেধ করবো। কিন্তু কিসের কি... রাত পোহালেই যেই কি সেই একই আমি।
আরেহ কোথা থেকে কোথায় চলে এলাম। আবরার হত্যার বিচার চাই। বিচার চাই। আর খুনিদের মাঝে যদি কেউ আমার আত্মীয় বন্ধু হয়ে থাকে তবে বলি, আবরার শিবির ছিল ভালোই হইছে।

যাই হোক... মোদ্দা কথা হচ্ছে অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছে। সে হিন্দু, মুসলমান, সাদা, কালো, মেধাবী কিংবা মেধাহীন যাই হোক না কেন! সে মানুষ!


প্রসঙ্গত,রওনক হাসান অভিনয় জীবনে পা রাখেন অনেক কম বয়সেই। মাত্র আঠার বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে রওনক থিয়েটার আর্ট নাট্যদল নামে একটি নাট্যদলে দলে যোগ দেন।আর এটিই তার অভিনয় জীবনের শুরু ছিল। তিনি প্রহেলিকা নামে একটি নাটকে আত্মপ্রকাশ করলেও তার চরিত্রটির কোনও সংলাপ ছিল না। তিনি ১৯৯৯ অবধি থিয়েটার আর্ট নাট্যদলের সদস্য হিসাবে ’কোর্ট মার্শাল’, কল্লাটার, হিংটিংছট, এবং কাটা’র মতো বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। এরপর তিনি নিয়মিত একজন নাট্যজন বনে যান।