ফজরের আজানের কিছু আগে শাশুড়ির গোঙানীর শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার। চোখ খুলে দেখি স্বামী তুহিন পাশে নেই। দরজা খুলে বাইরে যেতেই দেখি বাড়ির উঠোনে রক্তাক্ত অবস্থায় শাশুড়ি, ছোট দেবর ও খালা শাশুড়ির মরদেহ পড়ে আছে। পাশে ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমার স্বামী আমাকে দেখেই বলে ওঠে, ’সব কটারে শেষ করে দিলাম।’ আমি ভয়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই।
বুধবার পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেংগা সোনাপদ্ম গ্রামে ঘুমন্ত মা, ভাই ও খালাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার এ বিবরণ দেন প্রত্যক্ষদর্শী রুনা খাতুন।
বুধবার ভোরে মা বুলি খাতুন, ছোট ভাই তুষার ও আপন খালা মরিয়মকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার পর অভিযুক্ত তুহিন পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা জানতে পেরে থানায় খবর দিলে সকালে পুলিশ বাড়ির উঠোন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় এলাকাবাসী হতভম্ব ও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
তুহিনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হত্যায় অভিযুক্ত তুহিনের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বেড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশিষ বিন হাসান জানান, তুহিন কেন, কি কারণে সে তার পরিবারের তিনজকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তুহিনের স্ত্রী রুনা খাতুন পুলিশকে জানিয়েছেন, দুই মাস আগে তার স্বামী টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তারপর থেকে তুহিনের মেজাজ খিটখিটে ও ভারসাম্যহীন আচরণ ছিল। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়তো।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
poriborton
 
.