১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাসায় ফিরছিলেন র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট গাউছুল আজম। রমনা পার্কের অরুণোদয় গেট তখনও খোলা। কর্মব্যস্ত কিছু মানুষ তখনও রাতের অবসরে দৌড়, হাঁটাসহ শরীরচর্চায় ব্যস্ত। কেউবা বাসার উদ্দেশে বের হয়ে যাচ্ছেন পার্ক থেকে।
এ অবস্থা দেখে ওই ম্যাজিস্ট্রেটও পার্কে ঢুকলেন কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বাসায় ফিরবেন এবং রাত্রিকালীন পার্কের পরিবেশ কেমন তাও দেখা হবে ভেবে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর গাঁজার তীব্র গন্ধ পেয়ে এর উৎস খুঁজলেন তিনি। দেখলেন একটা বেঞ্চের ওপর দুজন বসে মনের আনন্দে সিগারেটে ভরে গাঁজা টানছেন। সঙ্গে সিগারেটের প্যাকেটে আরও দুটি সিগারেটে গাঁজা ভর্তি। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার স্প্রে, ই-সিগারেট পাওয়া গেল।
দুজনের একজন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক এবং অন্যজন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সদ্য পাস করা একজন ছাত্র। অভিযুক্ত দুজনের পিতামাতা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা জানান, বাবা-মা বেঁচে নেই। আপনজনও কেউ নেই ঢাকাতে।
প্রথমে এসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে বোকা বানানোর চেষ্টা করলেও অবশেষে অনেক কষ্টে তাদের পরিবারের সদস্যদের পাওয়া গেল। তারা ঘটনাস্থলে এলেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বাবা একজন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। রমনা পার্কে এসে ছেলের এমন কাণ্ডে হতবাক তিনি।
দুজনকে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এবং আর মাদকসেবন করবেন না অঙ্গীকার করায় পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেয়া হল। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে তাদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র:নতুন সময়