অবশেষে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক সেই আজাহার আলীকে একটি বাড়ি তৈরি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের রেশন থেকে প্রতিমাসে তাকে সহযোগিতা করার বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন।
এছাড়া জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে আজাহার আলীকে একটি বাইসাইকেল দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
আজাহার আলী বলেন, আমার অসহায়ত্ব দেখে এসপি স্যার (পুলিশ সুপার) যে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আশা করছি পরিবার পরিজন নিয়ে একটু মাথা গোজার ঠাঁই হবে। আর আমাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে সাংবাদিককের প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আলী মন্ডল বাবু বলেন, আজাহার নিতান্ত অসহায় ব্যক্তি। তবুও ফেরিঘাটে ট্রাফিক সেবা দিয়ে আসছিল সে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি বাড়ি করে দেয়ার কথা শুনছি। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, এসপি স্যার নিজেই আজাহারকে বাড়ি তৈরি করে দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার বাড়িতে ইট, বালু ও অন্যান্য জিনিসপত্র পৌঁছানো হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যেই দুই ঘর বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান অম্লান জ্যোতি নাগ বলেন, আনসার ভিডিপি থেকে আজাহার আলী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি যে জনকল্যাণমূলক কাজ করছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মান্দা উপজেলা মাসিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে একটি বাইসাইকেল দেয়ার জন্য মনস্থির করেছি। যাতে তিনি বাড়ি থেকে গন্তব্যস্থলে আসা যাওয়া করতে পারেন। শিগগিরই তাকে বাইসাইকেলটি দেয়া হবে বলে আশা করছি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক পুলিশের সেবা দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন আজাহার আলী। মহৎ কাজে পুলিশ সবসময় সহযোগিতা করবে। প্রাথমিক অবস্থায় তার জন্য একটি ইটের বাড়ি তৈরি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।
উল্ল্যেখ, নওগাঁর মান্দা ফেরিঘাটে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের চৌরাস্তা ও মহাদেবপুর উপজেলায় আজাহার ২০ বছর যাবৎ স্বেচ্ছাশ্রমে ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা দিয়ে আসছেন।