সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম। সেখানে একে একে তুলে ধরেন কুলাউড়া উপজেলার উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, কুলাউড়ার রাজনীতির প্রেক্ষাপট আর নিজের জনপ্রতিনিধি হওয়ার দশ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা সাথে সাবেক সংসদ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে কিভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এমন বিষয়।
কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
ওই সময় মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া সংসদীয় আসনে থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দশ বছরের উন্নয়ন ও সাফল্যের অগ্রযাত্রা আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। সারা দেশের পাশাপাশি বিগত দশ বছরে কুলাউড়ার আনাচে-কানাছে ব্রিজ, রাস্তাঘাট, কালভার্টসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটেছে। আশাকরি এর ধারাবাহিকতা আগামীতেও থাকবে।
তিনি বলেন, দেশে এখন দরিদ্রতার হার অনেকটা কমে গেছে। শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকার অতুলনীয় কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া এই সরকার বিদ্যুতের জন্য যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুতে আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আশা করা যাচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে কুলাউড়ায় শতভাগ বিদ্যুতের সুফল ভোগ করবে সাধারণ লোকজন।
তিনি মনে করেন নানা সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যারা হেরেছে তারাই বদনাম ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন তার বিচার জনগণ করবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে লাঙ্গলের প্রার্থী নবাব আলী আব্বাছ খাঁন বিজয়ী হয়ে সরকার থেকে সকল সুযোগ- সুবিধা নিয়ে পরে তিনি মহাজোট ছেড়ে কাজী জাফরের গ্রুপে গিয়ে খালেদার ২০ দলীয় জোটে অংশ নেন। কাজেই এলাকার নৌকা প্রেমিরা আর লাঙ্গল প্রতীক চান না।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে লাঙ্গলের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মতিন নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এছাড়া এই এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, উড়ে এসে জুড়ে বসা কাউকে যেন মনোনয়ন না দেয়া হয়। যারা কুলাউড়ায় স্থায়ীভাবে থেকে তৃণমূলে মানুষ ও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের যে কাউকে জনপ্রিয়তা যাচাই করে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেবার জোর দাবি জানান।
সুলতান মনসুরকে ইঙ্গিত করে আসম কামরুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা সাবেক জনপ্রিয় সাংসদ আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। নেত্রীকে ভূয়া রেজোল্যুশন দেখিয়ে বাবাকে চিঠি দেখানো হয়েছিল। আমার বাবা নেত্রীর চিঠির মূল্যায়ন করেছেন। সেই দিন আমার বাবা নেত্রীকে বলেছিলেন, আপনার চিঠির চেয়ে আমার এমপি হওয়া বড় নয়।
আসম কামরুল তার বাবার আদর্শকে বুকে লালন করে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এবার সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা যে, উপজেলা চেয়ারম্যান দলীয় এমপি’র মনোনয়ন চাইতে পারবেন না-এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে আমি কাজ করে যাবো, তবে এই ঘোষণা যদিও এখনো লিখিতভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে পারি। এ ছাড়াও দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তার পক্ষে আমরা কাজ করবো।
মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুল ইসলাম আরও বলেন, কুলাউড়ার মানুষ তাঁর দশ বছরের কাজের মূল্যায়ন করবে।
পরিশেষে তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা ও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মৌলভীবাজারের-২ আসনে নৌকায় ভোট দিতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণের প্রতি আহবান জানান।