যাবজ্জীবন কারাভোগ শেষে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে ভ্যান পেয়েছেন শামসুদ্দিন ওরফে শামসু (৪৮) নামের এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তার হাতে ভ্যানের চাবি তুলে দেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। এ সময় রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাছিমা খাতুন ও প্রবেশন অফিসার নূর আলী হাসান যোবাইদীসহ কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি শামসুর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলার তানোরের তালন্দ ইউনিয়নের গোকুল এলাকার জালেব দর্জির ছেলে শামসুদ্দিন। পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৯৯৫ সালের ২২ মার্চ স্ত্রী রুপজান বিবিকে হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর দায়রা জজ আদালত-৪ তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
২০২৫ সালের ২৪ মার্চ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তার। কারাবন্দি থাকাকালীন কারাবিধি মেনে চলায় ৬ বছর চার মাস ২৬ দিন সাজা মওকুফ করা হয়েছে তার।
জেল থেকে বেরিয়ে ভ্যান পেয়ে কেঁদে ফেললেন শামসু। বললেন, ২৩ বছর ৭ মাস ৬ দিন কারাগারে কাটিয়েছি। কারাগারে গিয়ে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছি, রেখে যাওয়া ছয় মাসের শিশু কন্যা মারা গেছে। তীব্র মানসিক কষ্টে দিন কাটিয়েছি।
ভুল করে স্ত্রীকে আঘাত করেছিলাম। এতে মারা যায় স্ত্রী। বিষয়টি যখন উপলব্ধি করতে পেরেছি তখন আর সময় ছিল না। একেবারে খালি হাতে কারাগার থেকে বেরে হয়ে কী করব এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আমার জন্য যে ভ্যানের ব্যবস্থা করেছেন এটি চালিয়ে আমার জীবন কেটে যাবে। এজন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
বন্দি সংশোধন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সভাপতি ও সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, কারাবন্দি থাকাকালীন শামসুদ্দিন কারাবিধি মেনে চলেছেন। এখানে তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক কাজেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাকে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। কারাগার পুরোপুরি সংশোধনাগার। এখানে বন্দিদের সংশোধনে যাবতীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা তাদের পুনর্বাসন করছি।