চট্টগ্রামের চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী মণিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫) অপহরণ নাটকের বিস্ময়কর রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। পুলিশ উদঘাটন করেছে যে, মণিকা বড়ুয়া স্বেচ্ছায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের একাধিক সদস্য জানা সত্ত্বেও তারা পুলিশকে সহযোগিতা না করে উল্টো মণিকা বড়ুয়াকে উদ্ধারের জন্য রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মণিকা বড়ুয়া অপহরণ নাটকের বিস্তারিত জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রামের ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী মনিকা বড়ুয়া (৪৫) গত ১২ এপ্রিল নগরীর লালখান বাজার হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফিরেননি। এই ঘটনায় পরদিন ১৩ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। পরে বিভিন্ন সময় মণিকা অপরহণ হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে ২৮ এপ্রিল মণিকা অপহরণ হয়েছে এমন অভিযোগ করে থানায় অপহরণ মামলা করেন মণিকার স্বামী সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার জানান, মণিকা বড়ুয়া নিখোঁজ হওয়া এবং অপহরণের অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশি অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ অনুসন্ধানে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জানতে পারে মণিকা অপহরণ হননি। তিনি স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বেরিয়ে ভারতের চলে গিয়েছিলেন প্রেমিকের হাত ধরে। সেখানে তিনি বিয়ে করে নাম বদল করে বসবাসও শুরু করেছিলেন। উল্টো দিকে চট্টগ্রামে থাকা মণিকা বড়ুয়ার বোন ও পরিবারের অনেক সদস্য সত্যি ঘটনা জেনে মণিকার সাথে যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও মণিকা অপহরণ হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের সাথে মণিকার পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকের মাধ্যমে, যিনি মণিকার চেয়ে বয়সে প্রায় ১০ বছরের ছোট। এই পরিচয় এক সময় প্রেমে রূপ নেয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কমলেশ বাংলাদেশে এসে গত ১২ এপ্রিল মণিকাকে নিয়ে বাসযোগে প্রথমে বেনাপোল নিয়ে যান। কিন্তু মণিকার ভিসা না থাকায় তাকে কৌশলে অবৈধভাবেই ভারতে প্রবেশ করান কমলেশ। পরে তারা কলকাতায় একটি মন্দিরে বিয়ে করে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাসও শুরু করেন।
পুলিশ তদন্তের সূত্র ধরে এক সময় কমলেশের খোঁজ পান। গত ৩ নভেম্বর কমলেশ তার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসলে পুলিশ ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে কমলেশকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর কমলেশ মণিকাকে ভারত নিয়ে যাওয়া থেকে বিয়ে পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনার স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর কমলেশের মাধ্যমে কৌশলে মণিকাকেও বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মণিকা রাধা চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনেও একজন পরিচিত মুখ। তিনি সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়ার স্ত্রী এবং চট্টগ্রাম লিটল জুয়েলস স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষক। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী।latestbdnews