রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিয়ের তথ্য গোপন করায় কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন হামিদ রানা নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। এ সময় কমিটির সভা থেকে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
রোববার সন্ধ্যায় পৌর ছাত্রলীগের এক সভায় হামিদ রানাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।
হামিদ রানা গোদাগাড়ী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি।
কর্মীদের অভিযোগ, গোদাগাড়ী পৌর ছাত্রলীগের এই সভাপতি বিবাহিত। বিষয়টি গোপন রেখেই তিনি পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান করে নেন। রোববার সন্ধ্যায় পৌর ছাত্রলীগের এক সভায় হামিদ রানাকে প্রত্যাখ্যান করেন কর্মীরা।
এ ঘটনার পর সোমবার সকালে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে লেখেন- বিবাহিত ছাত্রলীগ সভাপতি হামিদ রানাকে প্রত্যাখ্যান করলেন সাধারণ কর্মীরা।
রুবেল লেখেন- গোদাগাড়ী পৌরসভা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও রেশারেশির জেরে আমাকে বরখাস্ত করতে গিয়ে সাধারণ কর্মীদের তীব্র বাধায় ব্যর্থ হলো। এ সময় তৃণমূল ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণার দাবি জানালে তিনি দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন। আমার প্রতি এ ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে আমি জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির কাছে বিচার দাবি করছি।
জানতে চাইলে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের কমিটি গঠন হয়। এর এক বছর পর তিনি জানতে পারেন তার সভাপতি হামিদ রানা বিবাহিত।
গোদাগাড়ীর বাসুদেবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হক বাবুর বোন আলো রানীকে তিনি বিয়ে করেছেন। এখন তার চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগ করতে পারবেন না।
রুবেল আরও জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য হামিদ রানা এখন তাকে বহিষ্কার করতে চান। এ জন্য তিনি বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে বর্ধিতসভা ডাকেন।
খবর পেয়ে তিনিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে বিবাহিত হওয়ার কারণে উল্টো হামিদ রানারই পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হামিদ রানা।
স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আরও জানান, হামিদ রানা বিবাহিত হলেও ব্যক্তিগত লাভের জন্য সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে আছেন। তিনি নিজের আখের গোছাতেই ব্যস্ত।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা হামিদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজের স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথাও অস্বীকার করে তিনি বলেন, রুবেলের ফেসবুক পোস্ট তিনি দেখেছেন। কিন্তু এসব মিথ্যা কথা। তিনি বিয়ে করেননি। কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গেও জড়িত নন। সব সময় ছাত্রলীগের জন্যই কাজ করেন।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অচিরেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, হামিদ রানার বিয়ের খবর তিনিও শুনেছেন। কিন্তু গোদাগাড়ী পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়েছে তিনি সভাপতি হওয়ারও আগে।
জেলা ছাত্রলীগের আগের কমিটির সভাপতি রোকনুজ্জামান রেন্টু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারদিন ওই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন। তারা উপজেলা নির্বাচনের পর জেলার সব উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করবেন।