কর্মস্থলের পাশেই ফুটপাতে একটি চায়ের দোকানে পড়েছিল চার লাখ টাকা। চা খেতে গিয়ে সে টাকা পান বেসরকারি টিভি স্টেশন জিটিভির তিন সাংবাদিক। পরে টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে তা বুঝিয়ে দেন সাংবাদিকরা।
বুধবার ইফতারের পর সেগুনবাগিচায় জিটিভির কার্যালয়ের পাশে চায়ের দোকানে ব্যাগভর্তি পাওয়া চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জিটিভির কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর অঞ্জন রায় এক ফেসবুক পোস্টে জানান। পোস্টের সঙ্গে মালিকের হাতে টাকা তুলে দেয়ার একটি ছবিও শেয়ার করেছেন তিনি।
পোস্টে অঞ্জন বলেন, ’আমাদের জিটিভির তিন সহকর্মী সাংবাদিক শমী ইবরাহীম, রুবিনা ইয়াসমীন আর বিবি জোহরা গিয়েছিলো ইফতারের পর চা খেতে অফিসের নীচের চা দোকানে। সেখানে চা খেয়ে ফিরে আসার সময়ে তাদের চোখে পড়লো- তাদের বসার টুলের পাশে একটা ছোটো ব্যাগ পড়ে আছে। ব্যাগটি কার? কয়েক দফা জানতে চাইলেন তারা- কেউ উত্তর দিলো না। কয়েক মিনিট কাটলো, তিনজনের একজন ব্যাগটি খুলে দেখলে- ব্যাগটিতে প্রচুর টাকা। চা দোকানীকে ব্যাগের খোঁজে কেউ এলে অফিসে আসতে বলে তারা ফিরে এলো নিউজরুমে। চিফ রিপোর্টার রাজু আহমেদের কাছে ব্যাগ জমা দিয়ে যে যার কাজে ব্যস্ত হলো তিনজন।
অঞ্জন আরও জানান, কিছু সময় পরই জিটিভিতে এলেন দুজন- উদভ্রান্ত ভেঙে পড়া অবয়বের দুই সহোদর। তারা চা দোকানীর কাছে জেনেছেন, তিন আপা ব্যাগটা পেয়ে বলে এসেছেন জিটিভিতে খোঁজ নিতে। শুরু হলো রাজুর প্রশ্নের পর প্রশ্ন। তারা দুভাই উত্তর দিচ্ছেন। আমি দর্শক গ্যালারিতে। সব উত্তর মিলতেই দুজনের কাছে তাদের ব্যাগে থাকা ৪ লাখ টাকা তুলে দিলো সবাই মিলে। হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার খুশিতে দুই ভাই তখন বাক্যহারা।
পোস্টের সঙ্গে দেয়া ছবি নিয়ে তিনি বলেন, ’ছবিটা নিজের ফোনে তুললাম। আবার মনে হলো সাংবাদিক মানে শুধু খবরের পেছনে ছোটা যন্ত্রমানব নয়। চোখটা খোলা রাখা মানবিক মানুষও- যাদের কাছে উপকৃত হয় মানুষ। যেমন হলো আজ। আমরা আজ গর্ব করে বলতে পারি- আমাদের সহকর্মীদের সচেতনতার কথা। এই পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের, মনে থাকবে অনেক অনেক বছর।’
জিটিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ বলেন, ’চায়ের দোকানে বেঞ্চে ব্যাগভর্তি এতগুলো টাকা দেখে সাহসী সাংবাদিক হয়েও বিব্রত হয়ে পড়েন তিন সহকর্মী। এরমধ্যেও বিবেচনাবোধ ও দায়িত্বজ্ঞান হারাননি তারা।  অন্য কারো হাতে রেখে এলে প্রকৃত মালিক তা পাবে কি না- এই বিবেচনায় তারা ব্যাগটি অফিসে নিয়ে আসেন। চা দোকানীকে মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে আসেন, কেউ খোঁজ করলে জিটিভিতে যেতে বলবেন। আমার হাতে ব্যাগটি তুলে দেয়ার পর থেকেই প্রকৃত মালিককে খুঁজে টাকা ফেরত দেয়ার তাড়না ছিল তাদের মধ্যে।’
তিনি আরও বলেন, ’এর কিছু সময়ের মধ্যেই চায়ের দোকানদার এসে জানায় দুজন লোক ব্যাগের খোঁজ করছে। পরে তাদের অফিসে নিয়ে আসা হয়। মালিকানা প্রমাণ করার চেষ্টা করলাম। তারা দুটি এক হাজার টাকা আর চারটি পাঁচশ টাকার বান্ডিল, ভেতরে দুটি গাড়ির মামলার কাগজপত্র সম্পর্কে গাড়ির নম্বরসহ সঠিকভাবে বলে দিলেন। সব কিছু মিলে যাওয়ায় আর কোনো সন্দেহ রইলো না। সবশেষ প্রকৃত মালিককে টাকা ফেরত দিতে পেরেই খুশি আমরা।’ সততা ও দায়িত্বশীলতার জন্য তিন সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান রাজু আহমেদ।
dhakatimes24