ডেঙ্গু একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। বর্তমানে ডেঙ্গু এর প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডেঙ্গুর আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি অস্মিতা। টানা ছয়দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে অবশেষে ডেঙ্গুর কাছে হার মানতে হলো ভিকারুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অস্মিতাকে।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বিশিষ্ট কবি, ছড়াকার ও সংগঠক হেনা নুরজাহানের মেয়ে অস্মিতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের এমআইএস অ্যান্ড আইসিটির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আমানত মাওলা টিপু তার বাবা। বুধবার সকাল ৭টায় ঢাকা মিলেনিয়াম হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে অস্মিতা। অস্মিতার পৈতৃক বাসা ঢাকার আজিমপুরে। সম্প্রতি সে, তার বাবা-মা ও একমাত্র ছোটবোন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। তাদেরকে ঢাকা ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হলে অস্মিতাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মিলেনিয়াম হাসপাতালে। সেখানে ছয়দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল সে। অস্মিতার মৃত্যুর বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে তার মামা বিশ্বনাথের কামালপুর গ্রামের ছাত্রনেতা হিমেল আহমেদ জানান, ঢাকার আজিমপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দু’দফা জানাজা শেষে অস্মিতার লাশ সিলেটে নিয়ে আসা হবে৷ এখানে জানাজা শেষে আপার (হেনা নুরজাহান) ইচ্ছা অনুযায়ী হজরত শাহজালাল রহ. দরগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তবে তার লাশ বিশ্বনাথে নিয়ে আসা হবে না। প্রসঙ্গত, ডেঙ্গু ভাইরাসের কোন স্বীকৃত টিকা ভ্যাকসিন নেই। সুতরাং প্রতিরোধ নির্ভর করে জীবাণুবাহী মশা নিয়ন্ত্রণ এবং তার কামড় থেকে সুরক্ষার উপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাঁচটি মৌলিক দিশাসমেত সংবদ্ধ একমুখী নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর সুপারিশ করেছে (১) প্রচার, সামাজিক সক্রিয়তা, এবং জনস্বাস্থ্য সংগঠন ও সমুদায়সমূহকে শক্তিশালী করতে আইন প্রণয়ন, (২) স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিভাগসমূহের মধ্যে সহযোগিতা (সরকারী ও বেসরকারী), (৩) সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহার করে রোগ নিয়ন্ত্রণে সুসম্বদ্ধ প্রয়াস, (৪) যে কোন হস্তক্ষেপ যাতে সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে হয় তা সুনিশ্চিত করতে প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং (৫) স্থানীয় অবস্থায় পর্যাপ্ত সাড়া পেতে সক্ষমতা বৃদ্ধি।