সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসের কাছে সাধারন মানুষ সেবার জন্য গেলেও সেখানে সমস্যা যেন বেড়ে দাড়ায় চারগুন। কারন তিনি যে তার মুল্যবান স্বাক্ষার টাকার বিনিময়ে করে থাকেন। তার প্রতিটি স্বাক্ষরের মুল্য এতই বেশি যে এটা পেতে হলে সেবা গ্রহনকারিকে গুনতে হবে ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। তার কাছে জিম্মি সাধারণ জনগণ ও দলিল লেখকরা। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনও হয়েছে কয়েক দফা। কিন্তু তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বিঘ্নে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রেজিস্ট্রি অফিসে সুব্রত কুমার দাসের ঘুষ নেয়ার এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এবার নতুন খবর এই যে, গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেয়ার ভিডিও ভাইরালসহ নানা অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের আলোচিত উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যরা হলেন- ওই অফিসের মহরার আবদুস সালাম, নকলনবিশ সুমন আহম্মেদ ও দৈনিক মজুরি চুক্তির উমেদার (অফিস সহায়ক) আনিছুর রহমান।

জমিদাতা ও দলিল গ্রহীতাদের সমস্যায় ফেলে অবাধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিতে সহায়তা, জমির প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি, অসাধু দলিল লেখকের সঙ্গে ঘুষের টাকা ভাগবাটোয়ারা, ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া দলিল সম্পাদন বন্ধ রেখে সরকারি অফিসে সংবাদ সম্মেলন ও সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ মেলায় সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

ঘুষের টাকা গুনে গুনে নেয়ার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে এসবের সংবাদ দেখে জেলা রেজিস্ট্রার গত ২৮ আগস্ট এর তদন্ত শুরু করেন। গত আট কর্মদিবসের তদন্তে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসসহ কর্মচারীরা অভিযুক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রার এ ধরনের সুপারিশ করেন। সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন রোববার ঢাকায় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রার (আইজিআর) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আইজিআর কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। আইজিআর কার্যালয়ে সোমবার সশরীরে আমাকেও হাজির হতে বলা হয়েছে। হয়তো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনাও দেয়া হতে পারে।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন আইজিআর কার্যালয়ে প্রেরণের গোপন খবর পেয়ে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তি ঠেকাতে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস কৌশলে ছুটির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। গত ১৫ আগস্ট ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এনিয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস গত ১ সেপ্টেম্বর অফিস সময়ে ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়াই নিজ অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন।

উল্লেখ্য, যেকোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে দলিলের রেজিস্টেশন সংক্রান্ত বিষয়ে বিনাখরচে পরামর্শ পেতে পারে। দেশের ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসগুলোতে সীমিত জনবলের কারনে প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রে্শনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ প্রদান করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়না।যার ফলে সেবা নিতে আসা সাধারন জনগনের প্রায়সই পড়তে হয় ভোগান্তিতে। প্রতিটি অফিসে নির্দিষ্ট পরামর্শ ডেস্ক না থাকায় জনগন পরামর্শ প্রাপ্তির বিষয়েও অনেকে অবগত নয়।