ঢাকার বিখ্যাত আপন জুয়েলার্সের মালিক বিতর্কিত দিলদার আহমেদ এর বিরুদ্ধে তার ছেলে সাফাত আহমেদ একটি বিস্ফোরক ভিডিও বানিয়ে শোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে তিনি তার বাবার বিরুদ্ধে নানা ধরনের আওভিযোগ এনেছেন। এবার সেই সেই ভিডিও নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুললেন সাফাতের স্ত্রী মডেল মাহাবুব পিয়াসা। একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমের সাক্ষাতকারে এসে সাফাত ও তার বাবার সম্পর্কে নানধরনের কথা বলেন পিয়াসা। এ দিকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে ছেলে সাফাতের স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার করা মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
স্বামী সাফাতের বাবা সম্পর্কে মাহাবুব পিয়াসা বলেন, বিয়ের আগে তার (সাফাতের) মা সম্পর্কে আইডিয়া ছিল; কিন্তু বাবা সম্পর্কে কোন আইডিয়া ছিল না। বিয়ের পরে দেখলাম ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই আসলে নির্যাতিত। ঘরের যে প্রধান সে যদি মদ আর মেয়ে নিয়ে পড়ে থাকে, তো সে পরিবার থেকে সেখার কিছু থাকে না।

সাফাত সম্পর্কে স্ত্রী মাহাবুব পিয়াসা বলেন, তাকে বেশি পড়াশোনা করতে দেয়া হয়নি। তার বাবার কারণে পারেনি। গ্রাজুয়েশন সে করতে পারেনি। নর্থ সাউথে ছিল। সে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিল। বিয়ের পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাজেকর্মে তার মনোযোগ ছিল। কিন্তু পারেনি। যেহেতু তার অনেক কালো টাকা আছে, তিনি (সাফাতের বাবা) কালো টাকার অহংকারকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না। তার বাবার নামে মানি লন্ডারিংসহ ৫টা মামলা চলছে।

সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের বিরুদ্ধে পুত্রবধূ মাহাবুবার অভিযোগ, তিনি নির্যাতন করতেন এবং আমি অলরেডি একটা ভিডিও দিতে বাধ্য হয়েছি। আমি আমার স্বামীর আদেশেই এ ভিডিও দিয়েছি। তিনি যেখানে নিজের স্ত্রীকেই সম্মান দেননি। সেখানে ছেলের স্ত্রীকে সম্মান দেবেন এটা অনেক দূরের কথা।

মাহাবুবা বলেন, ভিডিওতে যেটা ছিল, সাফাতের ভিডিওটা দেখলে বুঝবেন সাফাত অনেক কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলেছে এবং এ কষ্টগুলো তার ভেতরে অনেকবছর ধরে জমেছিল। তার মুখ বন্ধ ছিল কারণ তার বাবা সবসময় তাকে ব্ল্যাকমেইল করত। বলতো যে, টাকা তো আমার কাছে। তোকে রাস্তায় ফেলে দিলে কি করে করে খাবি? সাফাতের স্বপ্ন ছিল একটা ইন্ডাস্ট্রি করবে যেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান থাকবে। কিন্তু সাফাতের বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছেলে বউ রেখে মেয়েবাজী করবে, মদ খাবে। যার কারনে তিনি নাইম আশরাফকে ঠিক করে দিয়েছিল যে সাফাতকে মেয়ে সাপ্লাই দিতো। নাইম আশরাফ স্বীকার করেছে বলেই সাফাত তার বাবাকে বলতে বাধ্য হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ২৮ শে মার্চ বনানীর একটি নামি-দামি হোটেল রেইনট্রিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। সে মসয় এই ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে সারা দেশে। ঐ ঘটনায় আপন জুয়ের্লাসের মালিক দিলদার এর পূত্র সাফাতকে মূল আসামী করা হয়।বর্তমানে সেই মামলার প্রধান আসামী হিসেবে কারাগারে রয়েছে সাফাত।