ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ময়মনসিংহের সরকারী একমাত্র হাসপাতাল। বিশেষ করে এই হাসপাতালের বেশির ভাগ রোগীরা হয়ে থাকে গরীব,দুঃখি মানুষরা যাদের বড় কোথাও চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই তাদের জন্যই এই হাসপাতাল। তবে অনেক সময় শোনা যায় এই হাসপাতাল নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা। হাসপাতালে দালাল আর মধ্যস্থভোগীদের দৌড়াত্ম নিয়ে শোনা যায় অনেক অভিযোগ। এ সব অভিযোগ দুর করে হাসপাতালকে একটি ক্লিন ইমেজ এনে দিতে যোগদান করেছিলেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন।শুরুতে তিনি কিছুটা সক্ষম হলেও বর্তমানে তিনি নিজে তার অবস্থান জানিয়েছেন।হাসপতালের ঘুষের দৌড়াত্ম নিয়ে এক প্রকার অশাহত হয়ে পড়েছেন তিনি। দির্ঘ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের অনুভুতি জানিয়েছেন। পাঠকদের উদ্দশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
\"সিরিয়াল নিতে ঘুষ ও আমার অবস্থান। আমাকে সৎ বলবেন না। আমি সৎ নই। কারণ আমার সব বিচারের রায় সমতার ভিত্তিতে হয়নি। আমি সব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ হতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাকে ঘৃণা করুন। এ জীবনের সঠিক সত্য কি বুঝতে পারিনি। আমরা যেমন মানুষ তেমনই আমাদের সমাজ। আমরা বন দেখতে গিয়ে পাতার দিকে তাকিয়ে বনের বিশালতা নিয়ে কখনোই ভাবি না।

আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বাস্তবতা ও নিরপেক্ষতা মেনে কথা বলিনা। আমাদের চাহিদা অনেক। কিন্তু সম্পদ, দক্ষতার ঘাটতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেই না। পুলিশ অফিসার বা যাদের হাতে ক্ষমতা বেশি তাদের বিরুদ্ধে উচ্চবাচ্য করার সাহস রাখি না। শুধু পারি হাসপাতালের যে কোন ঘটনাকে অতি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে উপস্থাপন করতে। অভিযোগ করার নিয়ম হাসপাতালের সব জায়গায় লিখা আছে। ফেসবুকে মন্তব্যের মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ করছি তাতে মনে হয় সাবালক হইনি।

আমার অবস্থানে থেকে ১০ দিন থেকে হাসপাতাল চালান। তারপর আমাকে ফাঁসি দিন। মতামতের স্বাধীনতাকে অমর্যাদাকর অবস্থায় নিয়ে যেয়ে হাসপাতালের অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। এটা করতে থাকলে ২০১৫ আগের চেয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি চলবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমি সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকুলতা নিয়েই ৪ বছর হাসপাতাল চালিয়ে আসছি। কোন সংস্থা শতভাগ সফল নয়, কারণ আমরা মন ও কথায় এবং কাজে এক নই।

ভাল মন্দ মিলিয়ে চরম ধৈর্য্য নিয়ে এ চার বছর সংগ্রাম করছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি সাধারণ জনগণের সুচিকিৎসার ব্যাপারে আমি শতভাগ ভালবাসা নিয়েই কাজ করি। সংস্থার ঐক্যের স্বার্থে অনেক কিছু নিয়ে কথা বলি না কারন আমাকে এদেরকে নিয়েই কাজ করতে হয়। আমি চাইলেও সব কিছু শতভাগ ঠিক হবে না। আমি গুণীজন না। বিবেকের কাছে আমি একজন ঘৃনীত মানুষ।\"


পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, \"১০০০ শয্যার হাসপাতালে ৩২০০ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আউটডোর এ ২০০০ এর পরিবর্তে ৫০০০ জনকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ১৯৮৭ সাল থেকে আমি ডাক্তার। তারপর থেকেই আমার প্রেম হয়ে রোগীদের সাথে। এখানে কোনো প্রাপ্তির প্রেম নেই। এই প্রেম শুধু দেয়া। এ পর্যন্ত বহু মানুষের জীবনে ভ্যালু বা কল্যাণ যোগ করতে পেরেছি স্রষ্টার দয়ায়।\"

প্রসঙ্গত, চিকিৎসা সেবায় দেশের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহম্মেদ। হাসপাতালে যোগদান করার পরে বেশ সফলতার সাথে হাসপাতালের দালালদের বিতাড়িত করেছিলেন। সেই মর্মে খুশি হয়ে সকলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্ট্যাটাসও।সে সময় তিনি সকলের প্রসংশাও কুড়িয়েছিলেন অনেক।