বর্তমান সংসদে নতুন করে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। আর নতুন এই বিলটি নিয়ে বর্তামনে সংসদে চলছে ঘোর বিরোধীতা।সদ্য উত্থাপন হওয়া এই বিলটি হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০২০’। সংসদে এই বিলটি সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর এই বিলটি সংসদে ওঠার পরপরই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। বিশেষ করে সংসদে উপস্থিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সাংসদরা এর ঘোর বিরোধীতা করেন।

এ বিলের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, কদিন পরে আমার অ্যাকাউন্টের টাকা নিয়ে নেবে কি না, সেই ভয়ে আছি। টাকা এখন ব্যাংক থেকে নিয়ে বাসায় নিয়ে যাবে কি না ভাবছি। শেয়ারবাজার ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই এই বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানাব।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে স্বশাসিত সংস্থার উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে নেয়া সংক্রান্ত ’স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থা সমূহের উদ্ধৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০২০’ বিলটি পাসের বিরোধিতা করে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিলটি পাসের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হম মুস্তফা কামাল প্রস্তাব করলে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

এই আইন পাসের ফলে ৬১টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত টাকা নিতে পারবে সরকার। পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ’যারা অন্যায় করেছে (তাদের) বিচারে নিয়ে যাব।’ তবে সংসদে তাকে ’ব্যবসায়ী’ বলে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলেও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার আরও ভালো করা উচিত। যে জায়গায় থাকা উচিত, সেখানে নেই।

বিলটি বাছাই কমিটিতে দেয়ার প্রস্তাব করে বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, এদেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়া এবং সরকারি ধারাবাহিক লুটপাটের এক প্রতীক এই আইন।

তিনি বলেন, সরকার রাজস্ব থেকে কেন উন্নয়ন করতে পারে না? শেয়ারবাজার লুট, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ, প্রকল্পের নামে সীমাহীন লুটপাট হচ্ছে। টাকা ব্যাংকে আছে। সেই টাকা নিয়ে নিলে শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ব্যাংকের হাতে টাকা থাকবে না। সরকারের এখন চোখ গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠের ক্ষমতা দেখাবেন না। পৃথিবীতে অনেক দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে।


প্রসঙ্গত, এ দিকে এই বিলটি উত্থাপনের সময় বেশ সমালোচনার মধ্যে পড়েন বাংলাদেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা জাহির করে তিনি নিজেকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী বলে দাবি করেন। আর এই খেতাবটি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিরোধী দলের সাংসদগণের শিকারে পরিণীত হন। তাকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির একাধিক নেতা কর্মিরা।