ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সম্প্রতি ঘটে গেছে একটি দৃষ্টিকটু ঘটনা।যা নিয়ে ইতিমধ্যে সারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার ছেলে ঘটিয়েছে একটি নেক্কার জনক কান্ড। পিতাহারা এক দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে ঐ আওয়ামীলীগের নেতার ছেলে। শুধু তুলে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি সে। তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা করলে ঐ তরুণীর পরিবারকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেয় সে। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
তরুণীর বড় মামা হাজী নাজমুল ইসলাম দারু জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরের পূর্ব মেড্ডাস্থ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকার এক বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উঠিয়ে নিয়ে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারে ছেলে মাহী সরকার।

এই নিকট আত্মীয় ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, অস্ত্র দেখিয়ে ফিল্মিস্টাইলে ওই তরুণীকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মাহীর সঙ্গে তার আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল। মুহূর্তেই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কানে। শনিবার বিকালে ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখা গেছে।

ওই তরুণীর আরেক আত্মীয় যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পরপরই তারা ওই তরুণীর মা পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর হোসনে আরা বাবুলকে নিয়ে ওই নেতার কাছে যান।

তখন বিষয়টি তিনি দেখছেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং মামলা না করতে হুমকি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের ওই নেতার এক চাচাতো ভাইয়ের মেয়েকে আমাদের এক আত্মীয়র কাছে বিয়ে দেয়। সেই সুবাদে নেতার ছেলে এখানে আসা-যাওয়া করত। তবে তার ভাগ্নির সঙ্গে ওই ছেলের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা সেটি তিনি জানেন না।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছি। মেয়েটির পরিবার অথবা এলাকার কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।

তবে এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, পরে খোজ নিয়ে জানা যায় ঘটনাটি ঘটিয়েছে এই জেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের ছেলে মাহি সরকার। তবে মাহি সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও নানা ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। এ দিকে ছেলের ঘটানো এমন কান্ডের অভিযোগ উপস্থাপন করতে আল মামুনকে বার বার মুঠো ফোনে সংযুক্ত করার চেষ্টা চালালেও পাওয়া যায়নি তাকে। একাধিক বার তাকে কল করা হলেও ফোন তোলেননি তিনি। এ দিকে পুলিশের কাছে বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে সেখানকার ওসি সেলিম উদ্দিন বলেন, মেয়েটির পরিবার থেকে অথবা এলকার কেউ এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এখনো আসেনি। তবে পরবর্তিতে কেউ এলে বিষয়টি আমলে আনান হবে।