করোনা ভাইরাসের কারনে এখন সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে বেশ অস্থিতিকর পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে দেশে করোনা ভাইরাস জেঁকে বসতে শুরু করেছে। দেশের পরিস্থিতি এখন বেশ থমথমে। এ দিকে গত ৩ দিনে দেশে পাওয়া যায়নি নতুন কোন করোনা রোগী অথচ দেশ ব্যাপি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক। যা মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে বেশ। সম্প্রতি ঠাণ্ডা-জ্বর ও সর্দিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যু হওয়া ৫০ বছর বয়সী এক নারীকে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে সেই নারীর দাফন করেছেন যারা তারা পুরো শরীরেই ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই) পরিহিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে সেই দাফনের একটি ভিডিও ঘুরতে দেখা গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স করে পাঁচজন ব্যক্তি এসে কবরস্থানের শেষ মাথায় ঝিলপাড়ের প্রান্তে এসে থামে। তাদের প্রত্যেকের পরনে ছিল পিপিই। তারা প্রথম অ্যাম্বুলেন্স থেকে একটি স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ নামান। এরপর কবরস্থানের ইমাম ও উপস্থিত আটজন মিলে জানাজা পড়েন। জানাজা শেষে স্ট্রেচারে করে তারা মৃতদেহটি কবরের কাছে আনেন।

এরপর পিপিই পরা তিনজন মিলে মৃতদেহটি কবরে নামান। কবরে দেহ নামানোর পর মাটি দেওয়া হয়। সব শেষে দাফনে অংশ নেওয়া ওই পাঁচজন কবরস্থানের ঝিলের পাড়ে এসে পিপিই খুলে ফেলেন। পিপিইগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তা নষ্ট করেন তারা।

দাফনের বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের স্টাফ মো. ফেরদৌস বলেন, দাফনের সময় ওই নারীর স্বামী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন। দাফনের আগে তারা কয়েকজন মিলে জানাজা পড়েন।


ওই নারীর স্বামী জানান, তার স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা এখনো জানা যায়নি। তার স্ত্রী কয়েক দিন ধরেই সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অল্প অল্প অসুস্থ ছিলেন। তবে তারা হাসপাতালে যাননি।

মৃতের স্বামী জানান, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) জানানো হলে আজ রোববার সকালে তাঁদের মোহাম্মদপুরের বাসায় এসে নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেই পরীক্ষার ফল আসেনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ’এখন আর পরীক্ষার ফল দিয়ে কী হবে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সর্বপ্রথম রোগী দেশে পাওয়া যায় ভলতি মাসের ৮ তারিখ। এর পর থেকে দেশে বাড়তে থাকে করোনা রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪৮ জনে। তবে আইএসডিআর এর মতে গত তিন দিনে বাংলাদেশে করোনার কোন রোগী পাওয়া না গেলেও দেশের সংবাদ মাধ্যেমগুলো বলছে অন্য কথা। দেশে ব্যাপি করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ভয়ানক হারে। যা সত্যিই চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display