একজন সাধারন সাধা সিধে মানুষ। দেখলেই যেন মায়া লেগে যায় মানুষের মনের মধ্যে। সামনে থেকে হেটে যাওয়া এমন কেউ নেই যে তাকে দেখলে দাড়াচ্ছে না। তাকে কেউ বলছে স্যার, কেউ ডেকে বলছে ভাই, আবার তার বয়সের থেকে বড় যারা তারা তাকে সম্বোধন করছে বাবা বলে। দেখলেই মনে হয় যেন রয়েছে সকলের সাথে তার নারীর টানের সম্পর্ক। পুরান ঢাকার বাসিন্ধা হলেও এ এলাকাতে জন্মগ্রহণ না করেও যেন তিনি এ অঞ্চলের মাটির সন্তান। তবে কোন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি নন তিনি। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলাবাসীর প্রিয় ও নন্দিত মানুষ ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল সাঈফ।
ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল সাঈফ বর্তমানে মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এনাটমি বিভাগ। তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিজিটি ( সার্জারী), এমফিল (এনাটমি-বিএসএমএমইউ), এসওটি (অ্যাডভান্সড মেডিকেল জেনেটিকস, সিএমসি, ভেলোর, ইন্ডিয়া), শরীরস্থানবিদ্যা ও মেডিকেল জীনতত্ত্ববিদ এবং মেডিসিন, সার্জারী ও শিশুরোগ অভিজ্ঞ।

ডা. সাঈফ ২০১১ সালে বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। ২০১২ সালে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, রাজবাড়ী সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজসহ ৪টি সরকারী মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দুরবর্তী এলাকায় হলেও তিনি অদ্যাবদী সপ্তাহে দুইদিন শুক্র ও শনিবার রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। তার কাছে কোন গরীব রোগী গেলে ঔষধ কেনার টাকা না থাকলেও অনেক সময় নিজের পকেটের টাকা দিয়েও ঔষধ কিনে দেন।

চন্দনা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে সত্বাধিকারী ইলিয়াছ হোসেন বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেক চিকিৎসক চিকিৎসা থেকে বিরত থাকলেও ডা. সাঈফ সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার বালিয়াকান্দি হাসপাতালের সামনে চন্দনা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়মিত ভাবেই বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন।

বালিয়াকান্দি গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল সাঈফ একজন অত্যন্ত মেধাবী এ চিকিৎসক। তিনি মানুষের মন জয় করে সর্বমহলে ’গরীবের ডাক্তার’ হিসাবে পরিচয় লাভ করেছেন। আসলে প্রতিটি চিকিৎসকের জন্য এটি অনুকরণীয়।

এ দিকে তার নামের এত সুনাম দেখে কথা বলতে গেল প্রতিবেদকরা। আর তার সাথে কথা বলেই যেন হতে হয় মুগ্ধ। একেবারেই সাধাসিধে একজন মানুষ। কথা হলো অনেক বিষয়। বললেন, আসলে আমি একজন চিকিৎসক। বালিয়াকান্দি উপজেলার মানুষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমাকে আপন করে নেন। এ থেকে আমি এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে থাকতে আমার জন্মভুমি এলাকার পাশাপাশি রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ১১ বছর ধরে ফ্রি সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো এ সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display