ছবি: ইন্টারনেট থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।
আজ বুধবার (১৩ মার্চ) পুনঃভোট দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ দাবি জানান তিনি।
নুর বলেন, ব্যাপক কারচুরির পরও ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে হারাতে পারেনি ছাত্রলীগ। আপনাদের ভোটে আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ মিলে আমার জয় আটকাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলছি, আমি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নির্বাচন বর্জনকারীদের সঙ্গে একমত। আমি ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দাবি করছি।
এর আগে সোমবার (১১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন কোটা আন্দোলনের নেতা ও ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী নুরুল হক নুর।
অন্যদিকে, তিন দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের পুরো ফলাফল বাতিল না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভোট বর্জনকারী পাঁচটি প্যানেল। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
তবে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া নুর ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের মধ্যে দুইটি পদ বাদ দিয়ে বাকি ২৩টিতে নির্বাচনের দাবি জানালেও, এবার তিনিও ওই অবস্থান থেকে সরে এসে সব পদেই নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। নিজে কোনো কর্মসূচির ঘোষণা না দিলেও জানিয়ে দিয়েছেন অন্যদের কর্মসূচিতে সম্মতি রয়েছে তার।
ডাকসুর ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই নির্বাচন বর্জন করেছিলেন ছাত্রলীগ বাদে প্রায় সবগুলো সংগঠন।
কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় জটিলতার। নুর শপথ নেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি যেই পদগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের নেতারা জয় পেয়েছিলেন সেগুলোতে নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবি জানান। তবে নুরের এমন সিদ্ধান্তে ’ক্ষুব্ধ’ হন অন্যান্যরা। সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।
পরে নুরের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বলেও জানিয়ে দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম নেতা ফারুক। তবে দিন পার না হতেই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন নবনির্বাচিত ভিপি নুর।
এদিকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল দিতে হবে। যারা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে আমরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান করব।
তিরি আরও বলেন, লিখিত বক্তব্য দেবো, তার সাথে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেবো। তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন বাতিল না করলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেবো।
অন্যদিকে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেও নিজে কোনো কর্মসূচির ঘোষণা করেন নি নূর। তবে সম্মতি জানিয়েছেন অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে।
নুর বলেন, আমি নিজে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে ছাত্র সংগঠনগুলোতে কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং তাদের কর্মসূচির সঙ্গে আমার সম্মতি রয়েছে।
বিডি২৪লাইভ