যুক্তরাষ্ট্রের সাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির ডাক পেয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি খায়রুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত। গবেষণার জন্য তার পছন্দ পাবলিক হেলথ, হেলথ কমিউনিকেশনের মতো বিষয়।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় খায়রুলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে গেুলো হচ্ছে- ওয়াশিংটন ডিসির হওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি-পুরডু ইউনিভার্সিটি ইন্ডিয়াপোলিস, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, উয়েনে স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন মিশিগান, সাউদার্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটি ইন কারবনডেলে, বোউলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন ওহাইয়ো এবং ইউনিভার্সিটি অব মেমপহিস ইন টেনেসি।
খায়রুল জানান, আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে পূর্ণ তহবিলের সাথে পিএইচডি ভর্তি হওয়ার জন্য এ সুযোগ আমি, আমার পরিবার-পরিজনের জন্য এটি একটি অনেক বড় খুশির সংবাদ।
তিনি বলেন, ’একটা সময় যখন আমি স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারবো কি-না তা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। আর এখন সেই আমাকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আমন্ত্রণ পেয়েছি। এটি সত্যিই একটি দারুণ অনুভূতি!’
ঢাবির এই প্রাক্তন জানান, তিনি পিএইচডিতে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ও ভোক্তাদের মধ্যে যে শূন্যতা বিদ্যমান তা পরীক্ষা করবেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ভোক্তারা নিজেদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো শক্তি অর্জন করেছে।
এ তরুণ আরও জানান, সহজেই বিশাল তথ্য ভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইন্টারনেট স্বাস্থ্যগত তথ্যের এক শক্তিশালী ও প্রকৃত এক উৎসরূপে আর্বিভূত হয়েছে। এসব তথ্য একই সঙ্গে এক ধরনের উদ্বেগেরও সৃষ্টি করছে। যেখানে বিজ্ঞানীরা কোন স্বাস্থ্যগত উদ্ভাবনের বিষয়ে দালিলিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করেন সেখানে ভোক্তারা ভাল-মন্দ বিচার করতে তাদের কাছে থাকা নিজস্ব তথ্যকে গুরুত্ব দেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত তথ্য ছড়িয়ে দিতে ভার্চুয়াল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার গবেষণা এই বিষয়টিকে যাচাই করে দেখবে যে কিভাবে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো ডিজিটাল তথ্যকে মূল্যায়ন করে। তার গবেষণা নীতি নির্ধারকদেরকে স্বাস্থ্যগত তথ্য বিষয়ক যোগাযোগের দক্ষ পন্থা নির্মাণে সহায়তা করবে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র গমনের আগে খাইরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কাজ করেন। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে মাস্টার অব সাইন্স (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে অ্যাডজানক্ট ইনস্ট্রাকটর হিসেবে যোগদান করেন।
সূত্র:ঢাকাটাইমস