’শিল্পীরা যখন অভিনয় বুঝে ফেলে তখন ন্যাচারাল অভিনয় করার চেষ্টা করে। হুমায়ুন ফরীদি এমন একজন শিল্পী ছিলেন, যিনি অভিনয়ই করতেন ন্যাচারাল। আমি যখন অভিনয়ে আসি তখন আমার সামনে চারটা পিলার ছিল, যাদেরকে দেখে আমার মনে হয়েছিল আমি যদি ওই পিলারের মধ্যে একটা ইট হতে পারতাম। এই চার পিলারের মধ্যে ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান, আহমেদ শরীফ, রাজিব আর হুমায়ুন ফরীদি। উনাদের সাথে থাকতে পারাটাই অনেক সম্মান মনে করতাম।’ কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় খলনায়ক মিশা সওদাগর।
২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান হুমায়ুন ফরীদি। আজ তার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী তাকে স্মরণ করে মিশা সওদাগর বলেন, ’হুমায়ুন ফরীদির মতো একজন অভিনেতা ছিল আমাদের। তিনি আমাদের গর্ব। কিন্তু আজকে আমরা যেখানে অবস্থান করছি, সেখানে সেই রকম কিছুই নাই। এখন সামনে কোনো পিলার দেখি না আমি। আমাদের এই ব্যর্থতা আজকে হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুবার্ষিকীতে বড় কোনো আয়োজন নেই। অথচ সারা দেশব্যাপী শিল্প সংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় বড় আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। শিল্পী সমিতি তার জন্য কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করছে।’
মিশা সওদাগর আরও বলেন, ’আজকের এই দিনে হুমায়ুন ফরীদি উৎসব হতে পারত। তাকে নিয়ে বড় কোনো অনুষ্ঠান হতে পারত। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো, পত্রিকাগুলো বিশেষ আয়োজন করতে পারত। এই দেশ আসলে শিল্প সংস্কৃতির দেশ না, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। আজকের দিনের বিশেষ হতাশা এটা। কিছু দিন আগে শ্রদ্ধেয় নায়ক রাজ রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী গেল, তার বাসায় কোন মিডিয়া যায়নি। যেই জাতি শিল্পীদের সম্মান দিতে জানে না তাদের দিয়ে কী হবে।’
হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে বেশকিছু সিনেমাতে অভিনয়ও করেছেন মিশা সওদাগর। একদিনের স্মৃতিচারণ করে বললেন, ’আমার তখন গাড়ি ছিল না, তখন তার সঙ্গে অনেক সময় গাড়িতে একসঙ্গে শুটিং স্পটে গিয়েছি। একদিন তার সঙ্গে শুটিং করে কক্সবাজার থেকে একা ঢাকায় আসছিলাম। তখন আমি তাকে বললাম, ’দোয়া করিয়েন ভাই গাড়িতে উঠলাম।
গ্রিন লাইন গাড়িতে করে ঢাকায় আসলাম। বাসায় আসা পর্যন্ত আধঘণ্টা পর পর উনি আমাকে ফোন করেছেন। তার এই আন্তরিকতার স্মৃতি কখনো ভুলতে পারবো না।’
বর্তমানে সিনেমা হলে চলছে মিসা সওদাগর অভিনীত ’আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ছবিটি। এই ছবিতে নায়ক নায়িকার ভূমিকায় আছেন কায়েস আরজু ও পরীমনি। ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে তার অভিনীত ’অন্ধকার জগৎ’। এই ছবির নায়ক ডিএ তায়েব ও মাহিয়া মাহি।

সূত্র:জাগো নিউজ ২৪