ভারতীয় কাপড় বলতেই বাড়তি চাহিদা ক্রেতাদের মধ্যে। আর বিদেশি শুনেই যারা আপ্লুত তারা আবার বাড়তি দাম দিতেও রাজি। আর এই সুযোগটা ভালোভাবেই নিত শাড়ি বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ ’মনে রেখ শাড়ি’।
কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এবার ধরা খেয়েছে তারা। জরিমানা গুণেছে আড়াই লাখ।
মঙ্গলবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দল প্রতিষ্ঠানটির নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সে ’মনে রেখ’র প্রধান বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এই প্রতারণার প্রমাণ পায়।
অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল। ছিলেন সংস্থাটির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ও উপ পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। সহযোগিতায় ছিল আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান।
পোশাক তৈরিতে সারা বিশ্বেই স্বনামধন্য বাংলাদেশে ঈদ মৌসুমে বিদেশি পণ্যের চাহিদা বেশি-এটা বরাবরই বলে থাকেন বিক্রেতারা। তবে কাপড় ব্যবসায় জড়িত একাধিক জন ঢাকাটাইমসকে জানান, বিদেশি বলে যেসব কাপড় বিক্রি হয়, সেগুলো আসলে দেশেই তৈরি হয়। কিন্তু দেশি বললে বেশি দাম পাওয়া যায় না, তাই তারা বিদেশি বলে বিক্রি করেন।
’মরে রেখ’র প্রধান বিক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় বলে বিক্রি করা শাড়ি যে আসলেই আমদানি করা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণপত্র নেই। আর এ বিষয়ে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে চুপ থাকেন সবাই


অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মনজুর শাহরিয়ার বলেন, ’মনে রেখ শাড়ি ঘরের রাজধানীতে বেশ কয়েকটি শো-রুম রয়েছে। বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় শাড়ি বিদেশি বা ভারতীয় বলে বিক্রি করত। আমরাও গিয়ে দেখিছি ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় বলে। তবে সেগুলোর বৈধ কাগজ দেখাতে বলা হলে তারা তা দেখাতে পারেনি।’
’আমরা ধারণা করছি, দেশি শাড়ি ভারতীয় বলে বিক্রি করছে অথবা ভারত থেকে অবৈধভাবে শাড়ি এনে ভ্যাট, ট্রাক্স ফাঁকি দিয়েছে তারা। কিন্তু ক্রেতাদের কাছ থেকে তারা ঠিকই অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে।’
’মনে রেখ’র প্রধান বিক্রয়কেন্দ্রটিকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অভিযান চালানো কর্মকর্তা বলেন, ’পরবর্তীতে রাজধানীর বাকি শো-রুমগুলো অভিযান চালানো হবে। এর মধ্যে তারা সংশোধন না হলে আরও বড় আকারে জরিমানা গুণতে হবে।’