মুখ খুললেন রাইফার মৃত্যুতে অভিযুক্ত চিকিৎসক এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডা. শুভ্র দেব।
তিনি লিখেছেন, \’আমি ডিউটি করছিলাম ২৮ জুন ইভিনিং-নাইট, তখনও বাচ্চা ভালো। ২৯ জুন মর্নিং এ হ্যান্ডওভার। মর্নিং ডাক্তারকে দিয়ে আমি ডিউটি লিভ করি। এরপর আর আমার কোনো ডিউটি ম্যাক্স এ ছিল না। ২৯ তারিখ মর্নিং ডাক্তার আসলো। দুপুর ১টায় বিধান স্যার আসলো, ২৯ তারিখ ইভিনিং ডাক্তার আসলো। রাত ১২টায় বাচ্চা মারা গেল, সেখানে আমার কী দোষ?
আমি ছিলাম ২৮ জুন। বাচ্চাটার কেবিনে চারবার যাই আমি। ডাকলেই চলে যাই। নার্সরা, সুপারভাইজাররা, ম্যাক্সের এমডিরা সবাই জানেন আমি কি রকম, পেশেন্টের প্রতি কতটা সিনসিয়ার। সেখানে আমার নাম আসলো বাচ্চার প্রতি অবহেলায়? সত্যি আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছি না আমার নামটা দেখে।
বিসিএসের আর এক মাসও নাই। এই সময় এত বড় ট্রমা আমি নিতে পারছি না। তাহলে আমি কেন পেশেন্টের প্রতি এতটা কেয়ারফুল? ম্যাক্সের নার্স, ডাক্তাররা যদি আমার স্ট্যাটাসটা দেখে থাকেন তাহলে আপনারাই বলেন আমি কি রকম। আমার আর বলার কিছু নাই। শুধু রাইফার মা-বাবার মুখোমুখি হতে চাচ্ছিলাম। জানি না তখন আর সেদিনের শুভ্রকে ওরা চিনবে কিনা।\’





এরপর শুক্রবার রাতে দেয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে ডা. শুভ্র লিখেন, \’আমাকে সিভিল সার্জন স্যার সেদিন হঠাৎ ফোন করে বলেন, তোমার সময়ও নাকি বাচ্চার সামান্য খিঁচুনি হয়? এক নার্স বলেছে। আমি বললাম, স্যার আমি নিজে জানি না খিঁচুনি হয়েছে, আর নার্স জানে? নার্সের কথা বিশ্বাস করবেন না স্যার। ওর তেমন কিছু হয়নি। একটু আনইজি ফিল করেছিল, আমি স্যালাইন অফ করার সাথে সাথে ও ভালো। আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে পাস করেছি, এমন কিছু হলে আমি বুঝতাম।
তারপর স্যার আমাকে বার বার ফোর্স করলে আমি আমার মৃত বাবা-মায়ের দিব্বি দিয়ে বলতে বাধ্য হই, স্যার সেদিন একটুও খিঁচুনি হয়নি। আমাকে বিশ্বাস করুন। বললেন, ঠিক আছে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।\’
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন দৈনিক সমকালের সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের কন্যাশিশু রাইফা গলাব্যথায় আক্রান্ত হলে নগরীর মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৯ জুন রাতে শিশুটি মারা যায়। শুরু থেকেই রুবেল খান তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলাকে দায়ী করে আসছিলেন।
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ। বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তারা।
প্রতিবেদনে রাইফার মৃত্যুর জন্য ডা. বিধান রায় চৌধুরীর, ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবের অবহেলাকে দায়ী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।
এরপর শুক্রবার ডা. দেবাশীষ ও ডা. শুভ্রকে ম্যাক্স হাসপাতাল থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। আর ডা. বিধান রায় চৌধুরীকে আর ডাকা হবে না বলে ঘোষণা দেন হাসপাতালটির কর্মকর্তারা।
সূত্র: পূর্বপশ্চিম