২১ জুলাই রাতে হানিফ পরিবহনের বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে যানজটে পড়ে। বাসযাত্রী সাইদুর প্রস্রাব করতে বাস থেকে নিচে নামেন। বাস দ্রুত টান দিলে পায়েল বাসের দরজার সঙ্গে জোরে ধাক্কা খায়। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
এ সময় সুপারভাইজার মো. জনি তাকে ওঠাতে বললেও চালক জালাল ও হেলপার ফয়সাল মনে করে যাত্রী পায়েল মারা গেছেন। এতে দায় এড়াতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ঘটনাস্থল ভাটেরচর ব্রিজের নিচে ফুলদী নদীতে তাকে ফেলে দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-৩ এর বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমউদ্দিনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসের সুপারভাইজার মো. জনি এ তথ্য দেন।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-উর-রশীদ হত্যার রহস্য উদঘাটন নিয়ে বলেন, পায়েল হত্যার রহস্য বের করার জন্য বাসচালক, সুপারভাইজার ও চালককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় হত্যার রহস্য। বাসের সুপারভাইজার পুলিশের কাছে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়ে পড়ে গেলে তিনি (সুপারভাইজার) ছেলেটিকে বাসে ওঠাতে বলেছিলেন চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। কিন্তু ছেলেটি মারা গেছেন মনে করে বাসে ঘুমিয়ে থাকা অন্য যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাটেরচর ব্রিজের নিচে তাকে পানিতে ফেলে দেয় চালক জালাল ও হেলপার ফয়সাল।
মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক হেদায়েতুল ইসলাম ভুইয়া জানান, গ্রেফতার তিন আসামির মধ্যে বাসের সুপারভাইজার জনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তিনজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুর এবং তাঁর রুমমেট ও বন্ধু আকিমুর রহমান আদর। ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ক্যাসেল হোটেলের সামনে যানজটে পড়ে। তখন সাইদুর তাঁর মোবাইল বাসেই রেখে প্রস্রাব করতে নামেন। ওই সময় সাইদুরের সহপাঠী ঘুমিয়ে ছিলেন।
সাইদুরের মা কোহিনূর বেগম সকালে তার মোবাইলে ফোন দেন। ফোন ধরেন বাসে থাকা তাঁর বন্ধু আদর। সাইদুর নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ২৩ জুলাই সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবের চর খাল থেকে সাইদুরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর হানিফ পরিবহনের তিনজনকে পুলিশ আটক করে।somoyerkonthosor