বাবা-মায়ের পরকীয়ায় ৩ সন্তান এতিম নিহত মাহমুদার পাঁচ বছরের ফুটফুটে একটি মেয়ে। নাম রিয়ানা রহমান জারা। অন্যদিকে তার বয়ফ্রেন্ড সাগর ইসলাম বাপ্পির দুই ছেলে। একজনের নাম মাসরিফ ইসলাম। বয়স সাত কি আট। ছোট ছেলের নাম জানা যায়নি। তার বয়স চার কি পাঁচ। দুই পরিবারের অবুঝ তিন সন্তান আজ এতিম। জারার বাবা থেকেও নাই। সে মাকেও হারিয়েছে। আর মাসরিফরা দুই ভাই বাবাকে হারিয়েছে। তবে জারা জানে না তার মা বেঁেচ নেই। কিন্তু মাসরিফরা বুঝে গেছে তাদের বাবা আর কোনদিন ফিরে আসবে না।
সূত্রমতে, ২০১৬ সালের মাহমুদা আক্তার শহরের উকিলপাড়ায় মেগাশপ এ কাজ নেয়। সে ছিল ওই সময়ে টপটেন শাখার প্রথম নারী বিক্রয়কর্মী। একমাস পর সেখানে চাকরী নেয় সাগর ইসলাম বাপ্পি। এক সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করার সুবাদে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হয়। এক সময় এই ঘনিষ্ঠা পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়। দুজনের মধ্যে মন দেয়া নেয়া চলে। ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অবস্থাই মডেলিং ও অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠে মাহমুদা। তাকে মানিসক সাপোর্ট দেয় বাপ্পি। এরইমধ্যে ২০১৭ সালের প্রথম কয়েক মাস কাজ করেই নিজেই রিজাইন করে মাহমুদা। মাহমুদা টপটেনের আন্ডার গার্মেন্টস বিভাগে কাজ করত। সেখান থেকে রিজাইন করার পর আর ওখানের কারও সাথে যোগাযোগ রাখেনি। এমনকি কাজের সহকর্মীদের ফেসবুকও ব্লক করে দেয়। উচ্ছাবিলাসী মাহমুদার সঙ্গে অল্প দিনেই অনেক ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়।
শুটিংয়ের বৌদলতে সে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে ঘুরে বেড়ায় এবং আড্ডা দেয়। এদিকে মাহমুদা তার সন্তানেরও তেমন একটা খোঁজ নিতো না। স্বামী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তার শিশু কণ্যা জারা নানীর বাসায় বড় হতে থাকে। এদিকে সাগর ইসলাম বাপ্পি মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভাপর রিকাবীবাজারের পুর্বগ্রামে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে নারায়ণগঞ্জে চাকরীর সুবাদে মাহমুদার সঙ্গে রঙ্গলীলায় মেতে উঠে। যা তার পরিবার জানতো না। সবশেষ সে গত রমজান মাসে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া বালুর মাঠে ফ্যাশন ওয়াল্ড একমাস সেলসম্যানের চাকরী করে। ঈদের পর দুই পরিবারের অজান্তে মাহমুদা ও বাপ্পি গোগনগরে গোপনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করে। তাদের রঙ্গলীলা একসম দুজনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদাকে খুন করে ঘাতক ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। লাশের র্দুগন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ৩০ জুলাই রাতে তালা ভেঙ্গে মাহমুদার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত মাহমুদার মা সুফিয়া বেগম জানান, ২০১৩ সালে মাহমুদার একটি বিয়ে হয়। একবছর পর যৌতুকের দাবিতে স্বামী হাফিজুর রহমান মাহমুদাকে নির্যাতন করলে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাদের সংসারে জন্ম নেয় রিয়ানা রহমান জারা। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে মেয়ে রিয়ানা রহমান জারাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিল মাহমুদ। নিজের ও মেয়ের খরচ যোগাড় করতেই চাকরি শুরু করেছিল।
এদিকে মাহমুদার লাশ উদ্ধারের একদিন পরই ৩১ জুলাই বাপ্পির মৃত্যুর বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সর্বত্র। কিন্তু প্রশ্ন যা-ই হোক মাহমুদা ও বাপ্পির পরকীয়ায় তাদের তিন সন্তান আজ এতিম। তাদের ভবিষ্যত আজ অন্ধকার। হয়তো আদরে-অনাদরে তারা একদিন বড় হবে। কিন্তু একজন ফিরে পাবে না তার মাকে আর দুইজন ফিরে পাবে না তাদের বাবাকে। নিষ্পাপ এই শিশুদের কোন অপরাধ ছিল না। বাবা-মায়ের পাপের প্রায়শ্চিত্তের শিকার হয়েছে তারা।latestbdnews