নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মাঝে রাজধানীর সাতমসজিদ রোড এলাকায় গাড়ি ভাংচুর করেছে একদল দুস্কৃতি। তাদের হামলার শিকার ওয়াজির সাত্তার নামের একজন রোববার দুপুরে ফেসবুকে লিখেছেন,
\’অসংখ্য ধন্যবাদ,
অসংখ্য ধন্যবাদ আমার গাড়ীর কাঁচ ভাঙ্গার জন্য। মহাবীরত্বের কাজ করে ফেলেছো ভবঘুরে যুবকেরা।
আজ ৪ অগাস্ট ২০১৮, বেলা ১ট ৩৫ মিনিটে যাচ্ছিলাম সীমান্ত স্কয়ার থেকে সাতমসজিদ রোড ধরে একটি ওষুধের দোকানের দিকে। সড়ক ৩এ বরাবর পাড় হবার সময় ১৫/১৬ বছর বয়সের স্কুলের কিছু ছাত্র ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করে আমার গাড়ীটাকে এগিয়ে যেতে দিল। আর ঠিক তখনি ওদেরকে ধাক্কা দিয়ে, ঠেলে ফেলে দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকলো একদল ২৫/২৬ বছর বয়সের পরিণত যুবক। স্কুলের ছেলেরা তখন শঙ্কিত হয়ে আমাদের পেছনে হটে যেতে অনুরোধ করলো। আমরা পেছনে হটতে শুরু করলাম। কিন্তু তার আগেই ১০/১২ জন গাঢ় নীল শার্ট, চেক শার্ট পড়া সেইসব যুবকেরা মোটা মোটা লাঠি নিয়ে চারদিক থেকে আমার গাড়ীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। কি তাদের অগ্নি দৃষ্টি! যেন আমি বাস দিয়ে কাউকে চাপা দিয়ে পালাচ্ছি। পারলে আমাদের মেরেই ফেলবে। কেউ লাঠির বাড়ি দিচ্ছে গাড়ীর গায়ে, কেউ দিচ্ছে লাথি, কেউ গাড়ীর সামনের বনেটে দিচ্ছে লাঠির বাড়ি। মুখ দিয়ে তাদের বেরুচ্ছে অশ্রাব্য গালাগালি। এক পর্যায়ে গাড়ীর সামনের কাঁচটি ভেঙ্গে ফেললো। আর তারপরই তারা ঝড়ের মতই সরে গেলো। স্কুলের বাচ্চাগুলো অপরাধীর মত আমার দিকে চেয়ে থেকে মাথা নীচু করে গাড়ীটিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করলো।
আমার প্রশ্ন, এই ২৫/২৬ বছর বয়স্ক স্কুলের বাচ্চারা কারা? আশেপাশে পুলিশ, অদূরেই বিজিবির গেইট। কিন্তু এতো সাহস এরা পেলো কি করে?
পাদটিকাঃ আমার গাড়ীর না হয় কাঁচ বদলাতে পারবো। গাড়ীর ফিটনেসও তাতে ফিরে আসবে। কিন্তু আমাদের সমাজের, জাতির স্বচ্ছ নির্মল কাঁচটি যে এই লাগামহীন যুবকেরা ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে সেটি ঠিক করবে কে?\’pbd.news