আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেছেন, শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের শুনানি করতে গেলে একপর্যায়ে আদালত আমাদেরকে বাস্তবতা বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ’আদালত কী কারণে বিব্রতবোধ করেছেন,তা আমরা বুঝতে পারিনি।’
শহিদুল আলমের জামিন শুনানির বিষয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের বিব্রত হওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিক্রিয়ায়  সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ’আমরা আজ  (মঙ্গলবার) আদালতের কাছে বলি, আমাদের যে জামিন আবেদনটি আছে— সেটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগটি চাই। এটা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।’
তিনি বলেন, ’আমরা কারণ জানতে পাঁচ দিন ধরে আমাদের আবেদনটি কার্য তালিকায় রয়েছে। প্রত্যেক দিন কোনও না কোনও কারণে এটি শুনানি করা যায়নি। গতকালও (সোমবার) অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষেই সময় নেওয়া হয়েছে। তারপরেই আজকে এসে আদালত কী কারণে বিব্রতবোধ করেছেন, তা আমরা বুঝতে পারিনি।’
শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, শুনানি করতে গেলে একপর্যায়ে বলা হলো— আমাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। আমরা তখন আদালতে বলেছি, বাস্তবতা কি এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো যাবে? সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা তার মুখ থেকে বলা হয়েছে— এটা বলানো হবে? তারপর তাকে আটকে রাখা হবে? তারপর তাকে জামিন চাইতেই দেওয়া হবে না? এটাই কি আমাদের বাস্তবতা?’
সারা হোসেন আরও  বলেন, ’আমি জানি, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা পেতে এই আদালতেই আসতে হবে। এখানে এসে যদি নাগরিক হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কোথায় যাবো, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’ 
শহিদুল আলমের আরেক আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ’আমরা এ মামলা নিয়ে হতবাক হলাম! এই মামলা নিয়ে বেশ কিছুদিন কথা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ও চেয়েছেন। কিন্তু বিব্রত হলে প্রথম দিনেই মামলাটির শুনানি নিয়ে বিব্রত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চারদিন পরে বিব্রত হওয়াতে আমরা হতবাক হয়েছি!’
তিনি বলেন, ’সারা হোসেন বিব্রতের কারণ বারবার জানতে চেয়েছেন আদালতের কাছে। কিন্তু উনারা (বিচারপতিরা) বলেছেন— এটা জানানোর বিষয় না।’
প্রসঙ্গত,  মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারক শহিদুল আলমের জামিন শুনানিককালে বিব্রতবোধ করেন।banglatribune