গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহমুদ সরকার। চলতি বছরের ১৬ মে সফিপুর বাজারের সরকার সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যান ডিবির পরিদর্শক বাচ্চু ও তাঁর দল। চোখ বেঁধে কালিয়াকৈরের বনের ভেতরে ঘোরাতে থাকে। ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কলেমা ও দোয়া-দরুদ পড়তে বলে। তাঁর অপরাধ কী জানতে চাইলে ডিবি পরিচয় দেওয়া ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের একটাই কথা, ওপরের নির্দেশ। একপর্যায়ে মাহমুদ সরকারকে চন্দ্রা জোড়া পাম্পের পাশে মুচি জসিমের অফিসে নিয়ে যায় তারা। নগদ দুই লাখ টাকা ও মাহমুদ সরকারের ছোট ভাই আনোয়ার আজাদের শাহজালাল ব্যাংকের সফিপুর শাখার অ্যাকাউন্ট থেকে দুটি চেক দেওয়া হয় মুচি জসিমকে। একটিতে ২০ লাখ টাকা (চেক নম্বর-০০০০০১৮) এবং আরেকটিতে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা (০০০০০১৯) দেওয়া হয়। পরের দিন ১৭ মে নগদ ২০ লাখ টাকা দিয়ে ০০০০০১৮ নম্বরের চেকটি ফেরত আনা হয়। মাহমুদ সরকারের মেয়ে মানিয়া সরকারের নামের এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার জমিটি অস্ত্রের মুখে সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ী হাজী ইলিয়াস আলীর নামে লিখে নেওয়া হয়। সেদিনের ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাহমুদ সরকার। তিনি বলেন, ’কোনো মামলা ছাড়াই আমাকে আটক করে এক কোটি টাকা দাবি করে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা বাচ্চুসহ পুলিশের সদস্যরা। গাড়িতে ঘুরিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেয়। শেষে নিজের জীবন বাঁচাতে মেয়ের এক কোটি ৩৫ লাখ টাকার জমিটি লিখে দিতে হয়েছে।’ সফিপুর বাজারের ১০ জনের বেশি ব্যবসায়ী জানান, মাহমুদ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কারো সঙ্গে তাঁর খারাপ সম্পর্কও নেই। এমন একজন ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জমি লিখে নিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা প্রত্যেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রায় দেড় কোটি টাকার জমিটি বিনা টাকায় কেন লিখে দিয়েছিলেন জানতে চাইলে মাহমুদ সরকারের মেয়ে মানিয়া সরকার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ’মুচি জসিম ও ইন্সপেক্টর বাচ্চুসহ পুলিশের লোকজন আমার বাবাকে ক্রসফায়ারে দিতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাবার জীবনের বিনিময়ে জমিটি লিখে দিয়েছি। যদি বাবার জীবনই বেঁচে না থাকে আমি জমি দিয়ে কী করব?’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালিয়াকৈর সফিপুর মৌজার সিএস এবং এসএ দাগ নম্বর ২৩৩ এবং আরএস ২৯৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৪ শতাংশ জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সফিপুর বাজারের সিনাবা রোডের মাথার সাড়ে চার শতাংশ জমির মালিক মাহমুদ সরকারের মেয়ে মানিয়া সরকার। চলতি বছরের ২১ মে সফিপুর বাজারের ইলিয়াস আলীর কাছে ৪৯৬৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সাবকবলা লিখে নিলেও এক টাকাও তাঁরা হাতে পাননি। অভিযোগ রয়েছে, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার জমি মুচি জসিমের সঙ্গে আঁতাত করে বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে লিখে নেয় ইলিয়াস আলী।
জমির দলিল লেখক মো. হাবিবুর রহমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ’জমিটি দেওয়ার সময় মানিয়া সরকার খুবই কান্নাকাটি করেছিলেন। জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও মানিয়া সরকার কিংবা মাহমুদ সরকারকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
যাঁর নামে জমিটি লিখে নেওয়া হয়েছে সেই ইলিয়াস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ’জমিটি আমাকে এমনিতেই লিখে দেন মাহমুদ সরকার। আমি তাঁর আত্মীয় বলেই লিখে দিয়েছেন।’
মাহমুদ সরকার ও তাঁর মেয়ে মানিয়া সরকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইলিয়াস আলী বলেন, ’ভাই আমার কোনো দোষ নাই, উনারা বাজার থেকে নিয়ে আমার নামে লিখে দিয়েছেন।’
ইলিয়াস আলীর এমন বক্তব্যে মাহমুদ সরকার ও তাঁর মেয়ে মানিয়া সরকার বলেন, ’পাগলেও তো এত টাকার জমি এমনি কাউকে লিখে দেয় না। মুচি জসিম ও ডিবির কর্মকর্তা বাচ্চুই ইলিয়াস আলীর সঙ্গে কথা বলে জমিটি লিখে নেয়। ঢাকার এসবি অফিসেও আমি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি; কিন্তু কোনো ফল পাইনি।’
একইভাবে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তার ফাঁদে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক আজাদ কামাল স্বপন ওরফে বান্টি স্বপন। ২০১৭ সালের কোরবানির ঈদের সাত দিন আগে রাতে হজ ফ্লাইট ছিল তাঁর মা-বাবার। মা-বাবার হজযাত্রা উপলক্ষে কালিয়াকৈরের সফিপুরের বাসায় গোছগাছ করে দিচ্ছিলেন বান্টি স্বপন। হঠাৎ গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ডেরিক স্টিফেন কুইয়া জরুরি কথা আছে বলে ফোন করে স্বপনকে সফিপুর বাজারে যেতে বলেন। বাজারে গিয়ে দেখেন একটি বড় মাইক্রোবাসে বসে রয়েছেন পরিদর্শক ডেরিক। সঙ্গে ডিবির এসআই খোরশেদ আলম ও কয়েকজন ডিবির পোশাক পরা পুলিশ। স্বপনকে জোর করে গাড়িতে তুলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে বলা হয়, একটি কারখানার জমি কিনে দিয়ে অনেক টাকা আয় করেছে স্বপন। এখন তিন কোটি টাকা দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে মুচি জসিমের মাধ্যমে স্বপনের বাবা আবুল কাসেম মাস্টার মধ্যস্থতা করে নগদ ৯০ লাখ ও ১০ লাখ টাকার চেক দিয়ে ছয় দিন পর ঈদের আগের দিন তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন।
জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা স্বপন জানান, ওই ছয় দিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় দিন ছিল। টাকার জন্য প্রতি মুহূর্তে ডেরিক তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। নির্যাতনের আগে রেকর্ড প্লেয়ারে গান বাজানো হতো, যাতে চিৎকার-কান্নাকাটির শব্দ বাইরে না যায়। মা-বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ায় হজে যাওয়া বাদ দিয়ে তাঁকে ছাড়ানোর জন্য অনেকের কাছে গেছেন স্বপনের বাবা। কিন্তু কাজ হয়নি। পরে মুচি জসিমের মাধ্যমে এক কোটি টাকা দিয়ে ঈদের আগের দিন মুক্তি মেলে। এক কোটি টাকার মধ্যে ধারকর্জ করে নগদ ৫০ লাখ দিতে হয়েছে। মা-বাবার পেনশনের ৪০ লাখ টাকা ব্যাংকে ছিল। ঈদের পর অফিস খুললে ওই ৪০ লাখ টাকাও দিতে হয়। আর টাকা না থাকায় তাঁর ছোট বোন ১০ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময় চেকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আবারও গ্রেপ্তারের ভয় দেখাতে থাকেন ডেরিক ও জসিম।
শুধু মাহমুদ সরকার আর আজাদ কামাল স্বপনই নন, গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে উপজেলার দুই শতাধিক মানুষ। মিথ্যা অভিযোগে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ—পরিদর্শক ডেরিক স্টিফেন কুইয়া, পরিদর্শক বাচ্চু, পরিদর্শক মাসুদ আলম, এসআই মোশাররফ, এসআই খোরশেদসহ ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে কালিয়াকৈরের মূর্তিমান আতঙ্ক জসিম উদ্দিন ইকবাল ওরফে মুচি জসিমের সঙ্গে যোগাসাজশে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ সাধারণ মানুষকে টাকার জন্য ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন এসব টাকা। ভুক্তভোগীরা বলছে, মুচি জসিম ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকায় বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ আয়েশি জীবন যাপন করছেন। শুধু মুচি জমিসই শতকোটি টাকার মালিক বনে যায়। এ ছাড়া পরিদর্শক বাচ্চু, ডেরিক স্টিফেন, মাসুদ আলম, খোরশেদ, এসআই মনিরুজ্জামান, ইকবালসহ অনেকে গাজীপুর-উত্তরা-কালিয়াকৈরসহ নিজ নিজ জেলায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শত শত মানুষ এভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। কিন্তু মুচি জসিমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গাজীপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের এক দিন পরই মুচি জসিমের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় কাপাসিয়ার বনে। এর পরদিন জেলা প্রশাসন, গাজীপুর পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গুঁড়িয়ে দেয় মুচি জসিমের সাম্রাজ্য। এরপর মুখ খুলতে থাকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। একের পর এক বেরিয়ে আসে মুচি জসিম ও পুলিশ সিন্ডিকেটের ভয়ংকর যত কাহিনি।
কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামকে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করে সন্ত্রাসীরা। চন্দ্রায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কলেজে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খুনের পর সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে মুচি জসিম। ওই মামলায় প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেয়ে নিরীহ মানুষকে ধরে লাখ লাখ টাকা আদায় করতে থাকে ডিবি পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও জসিম। ওই মামলায় ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে গিয়েই উত্থান শুরু জসিমের।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালিয়াকৈর পৌর মহিলা লীগের সভাপতি আলেয়া বেগমও মুচি জসিম এবং ডিবি পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বারবার। শুধু টাকার জন্য চারটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল তাঁকে। দুই মাস আট দিন জেলও খেটেছেন তিনি। ডিবি পুলিশ ও মুচি জসিমের দাবি করা এক কোটি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আলেয়া বেগম। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ’সেসব সাজানো মামলার বাদীরা আমাকে চেনে না। মুচি জসিম ও ডিবি পুলিশের লোকজন টাকার জন্য আমাকে মামলায় জড়ায়। জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসার আগেই আবারও গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। ডিবির ওসি আমির হোসেনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি মোবাইলে মুচি জসিমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ওই সময় মোবাইলে মুচি জসিম আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। তখন পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পাই। পরে বাড়িতে পল্লীমঙ্গল নামের একটি এনজিও থেকে ১০ লাখ টাকা উঠিয়ে মুচি জসিমকে দিই। সেই ঋণের টাকা দুই বছরের কিস্তিতে পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতটি কিস্তি পরিশোধ করেছি। প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকার কিস্তি দিতে হচ্ছে।’
উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই সাবেক চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনকেও মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় মুচি জসিম ও ডিবি পুলিশের তৎকালীন এসআই বাচ্চু মিয়া। চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ’ওই সময় জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার আশীর্বাদপুষ্ট ছিল মুচি জসিম। সেই কর্মকর্তা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।’ সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, ’যখন এসপি হারুন সাহেব ছিলেন তখন কোথায় ছিলেন আপনারা? ওই সময় কেন আসেন নাই? মুচি জসিম তো কামলা ছিল মাত্র। আসল লোকটাকে খুেঁজ বের করেন। গোড়ায় পানি না ঢেলে আগায় পানি ঢাললে তো হবে না!’
একইভাবে মুচি জসিমের মাধ্যমে ডিবি পুলিশের সিন্ডিকেট চলতি বছরের মে মাসে পৌর এলাকার বলিয়াদির আব্দুল লতিফকে ধরে নিয়ে ১৭ লাখ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ, সফিপুর বাজারের সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের কাছ থেকে ৬০ লাখ, একই বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ, সফিপুরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার সবুজ মোল্লার কাছ থেকে সাত লাখ, সুমন মিয়া, আবুল হোসেন, হারেজ মিয়া ও মো. কালাম নামের চার ব্যবসায়ীকে আটক করে ১৫ লাখ টাকা এবং একই বছরের ৮ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার চন্দ্রা এলাকা থেকে আব্দুল আজিজ ও শাহজাহান মাতাব্বর নামের দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়।
সম্প্রতি উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকার মো. ওমর আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাবের কাছ থেকে ছয় লাখ, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়ার কাছ থেকে দুই লাখ ৩৩ হাজার, বারেক হাওলাদারের ছেলে কালু মিয়ার কাছ থেকে সাত লাখ, আব্দুর রহমান ব্যাপারীর ছেলে সবুজ ব্যাপারীর কাছ থেকে তিন লাখ, হযরত আলীর ছেলে লেবার আব্দুল জলিল ও আব্দুল আজিজের ছেলে জালাল মিয়ার কাছ থেকে ৩৩ হাজার, আজিবর মণ্ডলের ছেলে ফরহাদ মণ্ডলের কাছ থেকে সাত লাখ, গোলাম আলী দেওয়ানের ছেলে খলিল দেওয়ানের কাছ থেকে সাত লাখ, হামিদুল হকের ছেলে মো. ফরিদ মিয়ার কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার, সেলিম ব্যাপারীর ছেলে ফরহাদ ব্যাপারীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করেছে ডিবি।
একটি রাইস মিলের মালিক জানান, ওএমএস, টিআর ও সরকারি রেশনের চাল তাঁদের অটো রাইসমিলে ছাঁটাই করা হয়। এ কারণে গাজীপুর ডিবি পুলিশ প্রতিটি অটো রাইসমিল থেকে পাঁচ-সাত লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-কালিয়াকৈর ও শ্রীপুর) শাহিদুল ইসলাম বলেন, ’আমি এসব কর্মকর্তার বিষয়ে কিছুই জানি না। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। আপনি আমাদের মিডিয়া সেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে গাজীপুরে সদ্য যোগ দেওয়া পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ’আমার জেলায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে কোনো কর্মকর্তা ছাড় পাবেন না। সবার সহযোগিতায় গাজীপুরের মানুষকে আমরা সেবা দিতে চাই।’
জানতে চাইলে পরিদর্শক মো. বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ’আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সবই মিথ্যা। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিইনি এবং ক্রসফায়ারের ভয়ও দেখাইনি।’ তাহলে কেন এমন অভিযোগ করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’এখন এরা কেন করছে তারাই বলতে পারবে। কারো জমি লিখে নেওয়ার বিষয়ও আমার জানা নেই।’
পরিদর্শক ডেরিক স্টিফেন কুইয়ার মোবাইলে গত সোমবার একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর গতকাল বুধবার রাত পৌনে ৮টায় ফোন করা হলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, ’আমার বিরুদ্ধে কারা অভিযোগ করেছে জানি না। তবে আলেয়া বেগমকে আটকের দিন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। ডিউটি অফিসারের নির্দেশ পেয়েছিলাম বলেই তাঁকে আটক করেছিলাম। এর বেশি কিছু আমি জানি না। সাধারণ মানুষকে ধরে টাকা নেওয়ার সঙ্গে কোনোভাবেই আমি জড়িত নই। সূত্র : কালের কন্ঠ