কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে এলাকায় যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শরিফুল আলম।
স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনে লিখিত জানিয়েও প্রতিকার পাননি। বাধ্য হয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকার নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
শরিফুলের দাবি, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী হওয়ার পর সম্প্রতি তার নামে ২৮টি ’গায়েবি’ মামলা দেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ’আগ্রাসী’ ভূমিকায় তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম বলেন, ’পুলিশ নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে সহযোগিতা করছে। আর আমার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এখানে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই।’
তিনি বলেন, ’আমি নিজেও গ্রেফতার ও হামলার আতঙ্কে এলাকায় যেতে পারছি না। কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’
’বাধ্য হয়ে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশন কেএম নূরুল হুদা বরাবর চিঠি দিয়েছি।’ যোগ করেন শরিফুল আলম।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তফসিলের পর থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে পুলিশের সহায়তায় মঞ্চ ও মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা ও শোডাউন অব্যাহত রয়েছে। বিপরীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ তল্লাশি করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী কর্মীরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
দ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে ব্যবস্থার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচবার এখান থেকে এমপি হয়েছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সর্বশেষ পাঁচটি নির্বাচনের চারটিতেই তার পরিবারের সদস্যরা বিজয়ী হয়েছেন।
শুধু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মো. জিল্লুর রহমানকে পরাজিত করে এমপি হন বিএনপির ডা. আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ বাবা জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে এখানে বিজয়ী হন নাজমুল হাসান পাপন। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন। এবারও দলের একমাত্র প্রার্থী পাপন।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলম। তবে বহিষ্কৃত ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গিয়াসউদ্দিনও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের ভৈরব উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ ভৈরবী।
তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে।
সূত্র:পরিবর্তন