ঢাকা-৭ আসনে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন। হাজী মো. সেলিম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন নাকি নবীন কোনো নেতা। কয়েক দিন ধরে গোটা এলাকায় হাজী সেলিমই আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন- এমন কথা শোনা যাচ্ছিল।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত হাজী সেলিমের নাম সর্বাধিক উচ্চারিত হলেও বিকেল থেকে নাটকীয়ভাবে উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে।
হাজী সেলিম নন, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন মনোনয়ন পাচ্ছেন- এমন খবর ছড়াচ্ছে। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের অনুসারী নেতাকর্মীরা শুক্রবার রাতে এলাকায় আনন্দ মিছিলও বের করে বলে জানা গেছে! এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাচ্ছেন, ঢাকা-৭ আসনে চূড়ান্তভাবে আওয়ামী লীগের টিকিট পাচ্ছেন কে?
আজ (রোববার) শরিক দলসহ আওয়ামী লীগের ৩০০ আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। শরিক দল বাদে কয়েক দিন আগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়। তবে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় শেষ মুহূর্তে কিছু আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এ তালিকায় ঢাকা-৭ অাসনের কথাও শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা-৭ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনে যারা আলোচনায় এসেছেন তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, হাজী সেলিমের ছেলে সোলায়মান সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হাসিবুর রহমান মানিক ও তরুণ নেতা মাহমুদুল হক জেমস রয়েছেন।
ঢাকা-৭ আসনে গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন হাজী সেলিম।
তবে দুই বছর ধরে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় তিনি। তারপরও নেতাকর্মীদের বিশাল একটা অংশ তার পক্ষে থাকায় আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিচ্ছে বলে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বিকেল থেকে ডা. জালাল মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে উল্টো বাতাস বইছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আজিমপুরে মেয়র হানিফ জামে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যে ডা. জালালকে খোশ মেজাজে দেখা যায় বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হাসিবুর রহমান মানিকও বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
ফলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না- আওয়ামী লীগের টিকিট শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন।
হাজী মো. সেলিমের মুখপাত্র মিলন বলেন, সেলিম সাহেব মনোনয়ন পেয়েছেন বলে এলাকায় আলোচনা চলছে। অন্যরা মনোনয়ন দৌড়ে সেলিম সাহেবের কাছে হেরে গেছেন বলেও লোকজন বলাবলি করছেন। আমরা মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আশা করি, নেত্রী আমাদের নিরাশ করবেন না। নেত্রীর ঘোষণার আগে কেউ নিজেকে প্রার্থী বলে দাবি করতে পারেন না।
নির্বাচনী এলাকায় সমর্থকদের আনন্দ মিছিলের কথা জানিয়ে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, আমি তো মনে করি যিনি কথা বলতে পারেন না, ৪-৫ বছর ধরে যিনি ঘর থেকে বের হতে পারেন না, তাকে পার্টি কেন মনোনয়ন দেবে? আমি এই আসনে বিকল্প কাউকে দেখি না। আমি শতভাগ আশাবাদী।