নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মধ্যে মারামারি হানাহানি এগুলো সমাজে পুরনো ঘটনা। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে একে অপরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে কুশল বিনিময়ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না।তবে বান্দরবান এর ব্যতিক্রম।বুধবার একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে এমনই অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে বান্দরবানে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে শহরের উজানী পাড়ায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে মাথা নিচু করে প্রণামের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
অন্যদিকে সাচিং প্রু জেরীও বীর বাহাদুরকে আর্শিবাদ করেন। পরে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে এমন ভাব দেখে সেখানে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। সবাই এর প্রশংসাও করেন।প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচনে কে জিতবে কে হারবে এটি বড় কথা নয় তবে সম্প্রীতির এলাকায় রেষারেষি ও হিংসা হানাহানি হবে না।দুপুরে এই দুই প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলামের কাছে মনোনয়ন জমা দেন।
বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ১৯৯৬ সালের পর এ পর্যন্ত ৩ বার সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বীর বাহাদুরের কাছে হেরে যান। এর মধ্যে ২ বার দলীয় প্রার্থী হিসেবে ও ১ বার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এবারও বোমাং রাজ পুত্র সাচিং প্রু জেরী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে ৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখনো বীর বাহাদুরের দখলে ৩০০ নং আসনটি। তিনি এখন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বান্দরবানে বড় দুটি দল বিএনপি আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্যান্য দলগুলোর তৎপরতা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মতোই এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক আস্থা ও ভালবাসা রয়েছে। এ কারণে বান্দরবানকে বলা হয়ে থাকে সম্প্রীতির এলাকা। সূত্র : পরিবর্তন