একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে অনেক আসনে আওয়ামী লীগ একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছিল। গতকাল চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব জল্পনার অবসান হলো। তবে শেষমুহূর্তে এসে আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। এছাড়া বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগ দেওয়া হেভিওয়েট নেতা শমসের মবিন চৌধুরীও বাদ পড়েছেন। মহাজোটের শরিক জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়াও চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি পাননি।
জামালপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বাদ পড়েছেন তিনি। এ আসনে আবুল কালাম আজাদ চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে জামালপুর-৫ আসনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা বাদ পড়েছেন। এখানে মো. মোজাফ্ফর হোসেন নৌকা প্রতীক পেয়েছেন।
চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তাই ওই আসনে তার সঙ্গে নৌকার প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম রহমানকে।
চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ক্ষেত্রেও মামলার সাজা নিয়ে জটিলতা ছিল। এ কারণে তার সঙ্গে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল মো. নূরুল আমিনকে। শেষ পর্যন্ত মায়ার বদলে নূরুল আমিনই চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান চাঁদপুর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত টিকিট পেয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া।
নওগাঁ-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মালেকও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে এসে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জন।
গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের হাজী সেলিম। এবার দল তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় তার প্রার্থিতা নিয়ে শঙ্কা থাকায় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আবুল হাসনাতকেও এবার প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ছিলেন জাঁদরেল রাজনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি বিএনপি থেকে বেরিয়ে সম্প্রতি বিকল্পধারায় যোগ দেন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে শমসের মুবিন প্রার্থী হতে পারেন বলে জোর জল্পনা ছিল। কিন্তু একেবারে শেষে এসে তার মনোনয়ন হাতছাড়া হয়ে গেছে।
নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগের বিএম কবিরুল হক নৌকার চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। চৌদ্দদলীয় জোটের শরিক জাসদের শরিফ নুরুল আম্বিয়াকেও এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়ল না আম্বিয়ার কপালে।