হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রার্থীর পাশে নেই বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতাকর্মীদের অভিযোগ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এলাকায়ও থাকেন না। এমনকি বিএনপির নেকাকর্মীদের নিয়ে এখনো এক টেবিলে বসেননি তিনি।
সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন। এ আসনে ৩০ বছর যাবত বিএনপির প্রার্থী হিসাবে কাজ করছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এরই মধ্যে বাহুবল- নবীগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের মনিকৌটায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এ বছর তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, নবীগঞ্জ বাহুবলের বিএনপির কাণ্ডারী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়া আমরা নির্বাচনে নামব না। তবে নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমাদের আমরা ত্যাগ স্বীকার করব। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বসেননি।
তারা বলেন, তিনি আমাদের কাছে আসলে সব পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে মাঠে নেমে যেতাম, পোস্টারে চেয়ে দিতাম পুরো এলাকা।
তাদের অভিযোগ ড. রেজা কিবরিয়ার পিএস শাহাবুদ্দিন শুভ সে নিজেই একজন সাংবাদিক, তাই তার প্রচারণার জন্য মাঠের লোক প্রয়োজন নেই, সে পত্রিকায় লিখেই প্রচারণা করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, মাইকিংয়ের জন্য সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়ার টাকাই পাই না, শুভকে ফোন দিলে তিনি বলেন, মাইকিং করতেও কি টাকা দিতে হবে। কিছু দিবনে, হিসাব করে রাখ,তোমরা ছাত্রদলের নেতা তোমাদের পকেটের টাকা কিছু খরচ কর।
ড. রেজা কিবরিয়া প্রতীক পাওয়ার পর থেকে দু’দিন তিনি নির্বাচনী এলাকায় এসেছিলেন। এসময় তার সাথে জেলা জাসাস সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রাজু ছাড়া অন্য কোন নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।
বিএনপির আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেজা কিবরিয়ার সাথে নির্বাচনী কাজে যাওয়ার ফলে আমাকে বিএনপির দালাল বলে ফেসবুকে আখ্যায়িত করা হয়।
তিনি বলেন, রেজা কিবরিয়া তাদের সাথে বসলেই সমাধান হয়ে গিয়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। একই অভিযোগ জামায়াত নেতাকর্মীদের।
বাহুবল উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ শামীম বলেন, ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আমাদের কাছে আসলে অবশ্যই আমরা তাকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নামব।