আরমান কবীর : তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনের তৃতীয় দিনে টাঙ্গাইল-৩ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন খানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল টিম লতিফ সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে এ মতামত দেন।
এর পূর্বে রাতভর বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে লতিফ সিদ্দিকীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের খোলা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় আনা হয়। সেখানে লতিফ সিদ্দিকীর সাথে দেখা করায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুধুমাত্র তার কাছের আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে।
লতিফ সিদ্দিকীর শারীকির অবস্থা সর্ম্পকে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় অনশন করার ফলে তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তার রক্ত গ্লকোজের মাত্রা কমে গিয়েছে, লো ব্লাড প্রেসার। তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। আমরা বার বার তাকে চিকিৎসা নেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি শুধু মাত্র খাবার স্যালাইন খাচ্ছেন। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। আমরা সর্বক্ষণ অ্যাম্বলেন্স তৈরি রাখছি। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হবে।
লতিফ সিদ্দিকীকে দেখতে এসেছিলেন কালিহাতীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মল্লিক। তার কাছে লতিফ সিদ্দিকীর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ বিশেষ। তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমি সংকিত। কর্তৃপক্ষের উচিৎ কোনোরকম কাল বিলম্ব না করে তার দাবি মেনে দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরাতৈলে লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী গাড়ী বহরে হামলা চালিয়ে ৪ টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হামলায় আহত হয়। এর প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে সেদিনই জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের মো. শহিদুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান শুরু করেন লতিফ সিদ্দিকী। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের বরাবরে একটি লিখিত দরখাস্ত দিয়ে তিনি অমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।
লতিফ সিদ্দিকীর দাবিগুলো হলো- কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোশারফ হোসেনের প্রত্যহার, নির্বাচনী গাড়িবহরে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা।