বর্তমান বিশ্বের মানুষের কাছে একটি ভীতির নাম করোনা ভাইরাস। এই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে এরপরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে করোনা ভাইরাস সেই সকল দেশে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এদিকে, চীনের করোনা ভাইরাস প্রথম দিকে সিঙ্গাপুরে ও তাইওয়ানে ছড়াতে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এই দেশ দুটিতে করোনা ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যার ফলে এই দুই দেশ থেকে অন্য দেশ গুলো ভাল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।


যখন ইউরোপ এশিয়া আমেরিকার শত শত দেশ করোনায় আক্রান্ত তখনই তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর একদম স্বাভাবিক। সারাবিশ্ব থেকে বিদেশিরা প্রবেশ করেন সিঙ্গাপুরে। তারপরও করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠিকই ঠেকিয়ে রেখেছে দেশটি। দেশটির একজন নাগরিক সান্দ্রা বলেন, সিঙ্গাপুরের রাস্তায় গাড়িঘোড়া চলছে, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট সব খোলা। আমি ইচ্ছামতো বাইরে যেতে পারছি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এখানে।

শুধু সিঙ্গাপুরই নয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক তাইওয়ানেও। স্বায়ত্বশাসিত এ অঞ্চলটি চীনের মূল ভূখণ্ডের একদম কাছে। একারণে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পরপরই তাইয়ানকে ’দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অঞ্চল বলা হচ্ছিল। অথচ তিন মাস পর সেখানে এখনও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৩, প্রাণহানি মাত্র দু’জনের।

কিন্তু কীভাবে? কীভাবে তারা আটকে দিল করোনাভাইরাসের মহামারি? কী করেছে তাদের সরকার? এক্ষেত্রে সবার আগে যে পদক্ষেপের কথা আসে, তা হচ্ছে- জনসমাগম বন্ধ করা। স্কুল, অফিস-আদালত, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট খোলা থাকলেও রয়েছে কিছুটা কড়াকড়ি। কোথাও বেশি ভিড় করা যাবে না। দুই শহরের কর্তৃপক্ষই করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখা, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোসহ বিদেশভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করছে কঠিনভাবে।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের করোনা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের মূলে রয়েছে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) সংকটের অভিজ্ঞতা। ২০০২-০৩ সালের ওই মহামারির পরপরই একটি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তারা। সম্প্রতি চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পরপরই বিদেশফেরত নাগরিক শনাক্তকরণ শুরু করে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ। চীন থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে কেউ ফিরলেই তাকে সোজা আইসোলেশনে পাঠানোর নির্দেশ দেয় তারা।

স্বাস্থ্য ও ভ্রমণবৃত্তান্ত একীভূত করে তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্ভাব্য রোগীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। চিকিৎসক এবং ফার্মেসিগুলোকে নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিবৃত্ত ও স্বাস্থ্যবীমার ডিজিটাল ফাইলগুলো ব্যবহারেরও ব্যবস্থা করে দেয় কর্তৃপক্ষ। করোনা সংকট শুরুর পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণের মজুত বৃদ্ধি এবং ভাইরাসপ্রতিরোধী মাস্ক তৈরিতে শত শত সেনাকে কাজে লাগায় তাইওয়ান। ইতোমধ্যেই ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার অঞ্চলটিতে সার্জিক্যাল মাস্ক ৪ কোটি ৪০ লাখ ও উন্নত এন৯৫ মাস্ক জমা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ পিস।

মাস্কের দাম যেন কেউ বেশি নিতে না পারে সেটিও নিশ্চিত করেছে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ। সেখানকার সব নাগরিককে প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি দু’টি মাস্ক দেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের জন্য বড় জরিমানারও ব্যবস্থা করেছে তারা। এ নির্দেশনা না মানায় সম্প্রতি হংকংয়ের তিন পর্যটককে ধরে তিন হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন ভঙ্গকারী আরও তিনজনের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যেন সবাই তাদের থেকে সাবধানে থাকতে পারেন। এছাড়াও খাবার সংকট ও প্রয়োজনী সরঞ্জাম সংকট বতৈরি করায় বড় অংকের জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরও করোনা নিয়ন্ত্রণে চমৎকার উদারণ সৃষ্টি করেছে । সার্স মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে তারা ৩৩০ সম্পন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর উহানে প্রথমবার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। আর ৩ জানুয়ারি থেকেই চীনফেরত যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা শুরু করে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। ওই মাস শেষ হতে না হতেই সারাবিশ্ব থেকে আগত যাত্রীদেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে তারা। সেসময় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ জনের শারীরিক পরীক্ষা করেছে সিঙ্গাপুর।

এছাড়া, করোনা আক্রান্ত বা সংক্রমণের স্থান শনাক্ত করতে দিনে অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিঙ্গাপুরের অ্যাসিসটেন্ট পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জনি লিম বলেন, ’এটা অনেকটা অপকর্ম সমাধানের মতো। বিভিন্ন লোক, বিভিন্ন জায়গা থেকে টুকরো টুকরো তথ্য জড়ো করা- এই কাজে প্রায় একই ধরনের দক্ষতা দরকার।’

ইতোমধ্যেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি ও তাদের নিকটতমদের শনাক্ত করতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে দেশটির পুলিশ। হার্ভার্ড পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের শুরুর দিকে সিঙ্গাপুর বাকি বিশ্বের চেয়ে গড়ে অন্তত তিনগুণ বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী খুঁজে বের করেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৩২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে ১৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে, চীনেও করোনা ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকখানি কমে এসেছে। তবে চীনে যে সকল নতুন ব্যাক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তারা মূলত অন্য দেশ থেকে আসছেন। এদিকে, ইউরোপের দেশ গুলোতে করোনা ভাইরাস ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে ইউরোপের দেশ গুলোতে অনেক মানুষের প্রাণনাশ হচ্ছে। তবে সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ান যে ভাবে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে এ থেকে অন্য দেশ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

আরো পড়ুন

মেয়ের গোপন ভিডিও রেকর্ড করতেন মা, ভিডিও প্রতি টাকা দিতেন জামাই

23 November, 2020 | Hits:2324

প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন এমন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে যা মানুষকে করে তোলে অবাক। বর্তমান পৃথিবীতে সম্পর্কগুলোও কেমন যেন হয়ে যা...

অবশেষে জানা গেল কেন মৃত তরুণীদের ভোগের বস্তু বানাতেন সেই মুন্না

23 November, 2020 | Hits:1236

সারা দেশে একটি ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আর এই ঘটনাটি প্রকাশ হবার পর থেকেই মানুষে মধ্য সৃষ্টি হয়েছে একটি আতঙ্ক। না...

যেদিন শুনলাম সাকিব পূজা উদ্বোধন করতে যাবে, আনন্দে বুকটা ভরে উঠেছিল:বিচারপতি মানিক

23 November, 2020 | Hits:969

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের সব থেকে জনপ্রিয় একটি নাম। দেশের সব থেকে বড় ক্রিকেটার তিনি। সব সময়ই থাকেন দেশের আলোচনায়। তবে স...

সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে করা সেই প্রশ্নের জবাব দেননি জিয়া,অস্থিরভাবে হাতঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন:খুশবন্ত

22 November, 2020 | Hits:503

বাংলাদেশের ইতিহাসে দুটি নাম সব থেকে বেশি জনপ্রিয়। একটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং অপরজন মেজর জিয়া বা জিয়াউর রহমান। দ...

অবশেষে গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ওবায়দুল কাদের

24 November, 2020 | Hits:297

সম্প্রতি বাংলাদেশের টক অব দ্য টাউনে পরিনীত হয়েছে একটি নাম। আর তা হলো গোল্ডেন মনির। এই নামটি এখন সারা দেশে উচ্চারিত একটি ...

নারী কাউন্সিলর এক চামেলীর দাপটেই অসহায় পুরো রেল কর্তৃপক্ষ

22 November, 2020 | Hits:245

বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশের সরকারি খাতের সব থেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছরই এই রেলখাতে ঘাটতি থাকে ব্যাপক পরিমানে। এ দ...