বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা আদালতে গড়িয়েছে। আদালতেই মুখোমুখি দেখা বাবা আর মেয়ের। কিন্তু সেই দেখায় কোনো আনন্দ ছিল না, বরং তিক্তকর এক পরিবেশের জন্ম দিল।
আদালতে মা রত্না চট্টোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন মেয়ে সুহানি। অন্যদিকে তার বাবা কলকাতার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গ দিচ্ছিলেন তার আলোচিত প্রেমিকা। আদালতে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ মামলার মধ্যে নিজেকে সামলাতে পারলেন না ক্লাস নাইনের সুহানি।
শোভন-রত্না ডিভোর্স মামলা এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে আলোচিত মামলা। গত সোমবার শুনানিতে বান্ধবী কলেজ শিক্ষিকা বৈশাখীকে নিয়েই হাজির হন শোভন। অন্য দিকে রত্না চট্টোপাধ্যায় নিয়ে আসেন ছেলে আর মেয়েকে।
আলিপুর আদালতে বিচারপতির কাছে রত্না জানান, ছেলে মেয়ে বাবাকে না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে। মনস্তাত্বিক সমস্যা হচ্ছে মেয়ের। বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। এর পরে সুহানি বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুরুতেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে। বারবার বাবাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন।
তবে মেয়ের কান্না দেখেও নরম হননি শোভন। তিনি নাকি, মেয়েকে বলেন— তোমার মা ডিভোর্স দিয়ে ওই বাড়ি ছেড়ে না গেলে তিনি ফিরবেন না।
ছেলে মেয়েদের আদালতে নিয়ে এসে রত্না বিষয়টিকে ’সেন্টিমেন্টাল’ করতে চাইছেন বলেও শোভন ঘনিষ্ঠদের কাছে মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। এমন কী স্কুল কামাই করে মেয়ে কেন আদালতে সেই প্রশ্নও তোলেন। মেয়ের কাছে মায়ের অবৈধ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করেন। আর সব শেষে মেয়ের কান্নাতেও না গলে শোভন নাকি এমনটাও বলেন যে— তাদের মা ’নোংরামি’ বন্ধ না করলে তার পক্ষে বেহালার বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।
সন্তানদের নিয়ে এদিন বাবা, মা দু’জনেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। শোভন বলেন- ’সন্তানদের ভাল চাই, চাই মানুষের মতো মানুষ হোক। কিন্তু ওদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’ অন্য দিকে, রত্নার দাবি, ’আমার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলেও চলবে। উনি যেন সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।’
প্রসঙ্গত, কলেজ শিক্ষিকা বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে গত মাসের শেষ দিকে কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান শোভন চট্টোপাধ্যায়। তার স্থলে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমকে শহরের নতুন মেয়র হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।latestbdnews