বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন গ্রিসের এক ব্যক্তি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানের ১৫৭ আরোহীর মতোই তারও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারত। কিন্তু দু’মিনিট দেরি করায় এই দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন আন্তোনিস ম্যাভরোপোলাস।
রোববার সকালে আদ্দিস আবাবার বোল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮ জন ক্রু-সহ ১৫৭ আরোহী নিয়ে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে উড্ডয়নের ছয় মিনিট পর ৮টা ৪৪ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে রাডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে আদ্দিস আবাবা থেকে ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বদিকের বিশোফতু শহরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আন্তোনিস ম্যাভরোপোলাস নামের ওই গ্রিক নাগরিক জানান, ফ্লাইটের জন্য তার পৌঁছাতে দু’মিনিট দেরি হয়ে গিয়েছিল। না হলে ১৫৭ আরোহীর মতোই প্রাণ হারাতে হতো তাকে।
তিনি বলেন, গেটে সময় মতো ঢোকার জন্য কেউ তাকে সাহায্য করছিল না। এতে তিনি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি দিনটিকে তার জন্য সৌভাগ্যের দিন বলে উল্লেখ করেছেন। এর সঙ্গে তিনি ওই ফ্লাইটের টিকেটের ছবিও পোস্ট করেছেন।
ম্যাভরোপোলাস ইন্টারন্যাশনাল সলিড ওয়াস্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অ্যাথেন্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিতে করে তার নাইরোবিতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয় একটি প্রোগ্রামের বার্ষিক সমাবেশে অংশগ্রহণের কথা ছিল তার।
ডিপার্চার গেট বন্ধ করে দেয়ার দুই মিনিট পরে পৌঁছান তিনি। ফলে বিমানের ওই ফ্লাইটে করে নাইরোবি যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যেতে পারেননি।তিনি বলেন, তিনিই একমাত্র যাত্রী যিনি ওই ফ্লাইটে যেতে পারেননি। বিমানবন্দরের পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বলেন কারণ ইতোমধ্যেই তারা জানতে পেরেছিলেন যে, ইটি ৩০২ ফ্লাইটটির রাডারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিধ্বস্ত বিমানটিতে ৩০টি দেশের নাগরিকসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন কর্মীও ছিলেন।