চীন থেকে উৎপত্তি করোনা ভাইরাসের। যা এখন বিশ্বব্যাপি চালাচ্ছে তান্ডব। ইতিমধ্যে বিশ্বের সব কয়টি দেশে ছড়িয়েছে এই করোনা ভাইরাস। এ দিকে এত দিন চীন এই ভাইরাস থেকে বেশ রিকভার করে ফেলেছিল নিজেদের। তবে আবারো শোনা যাচ্ছে ভয়ের একটি কথা। চীনে আবারো আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সব থেকে ভয়ের যে বিষয় তা হলো একবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছে তাদের মধ্যে একটা সংখ্যক মানুষ আবারো আক্রান্ত হচ্ছে এই ভাইরাসে।হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরীক্ষা করে তাদের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। আর তা এখন যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীনের উহান শহর ছিল করোনা ভাইরাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। শহরটির টোংজি হাসপাতালের চিকিৎসকরা খুব কাছ থেকে দেখেছেন করোনা জীবাণুর চরিত্র বদল। টোংজি হাসপাতাল জানিয়েছে, নিউক্লিয়ার অ্যাসিড টেস্টে দেখা যাচ্ছে, ১৪৭ জন রোগীর মধ্যে পাঁচজন; অর্থাৎ তিন থেকে পাঁচ শতাংশ সেরে ওঠা রোগী ফের করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। যদিও তাদের শরীরে কোনো উপসর্গ ছিল না, তাদের সংস্পর্শে থাকা কারো শরীরে এই রোগ ছড়ায়নি এখনো পর্যন্ত। তাও সবাইকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। চীনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। সংক্রমিত ৯০ শতাংশের বেশি রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চার হাজার তিনশর মতো রোগীর এখনো চিকিৎসা চলছে। কিন্তু এই পরিস্থতিতে নতুন করে সংক্রমণ ভাবাচ্ছে দেশাটর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

তবে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চলছে। গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন যে, করোনা রোগীরা সেরে ওঠার পর ফের তাদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে। টোংজি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ চিহ্নিত করেন। অন্য দেশের তুলনায় চীনে রোগীরা অনেক বেশি সংখ্যায় সেরে ওঠায় তাদের গবেষণা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালটির প্রেসিডেন্ট ওয়াং বলেছেন, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার এক মাস পর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীর শরীরে করোনা সংক্রমণ মেলেনি। যদিও তার মতে, খুব অল্প কয়েকজনের মধ্যে পরীক্ষা চলেছে, তাই তাদের অনুসন্ধান চূড়ান্ত কি-না তা বোঝার সময় এখনো হয়ে ওঠেনি। ইউহানের অন্যান্য হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগী সেরে ওঠার পরেও ফের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চলের সংখ্যা ১৯৫ টি। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ লাখেরও বেশি। এবং এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা আশানুরুপ না হলেও ১ লাখ ছাড়িয়েছে এই সংখ্যা। তবে করোনার লাগাম টেনে ধরতে পারছে না কেউই।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display