করোনা ভাইরাস চীনকে শেষ করে দিয়ে ধরেছে পুরো বিশ্বকে।আর চীনের পরপরই এই করোনা ভাইরাস সব থেকে ভয়ঙ্ক ছোবল মেরেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে সব থেকে বেশি। বিশেষ করে নিউইর্ক সিটিতে এই করোনা ভাইরাস তার প্রকোপ ফেলেছে সব থেকে বেশি। আর এ নিয়ে এবার ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস আহমেদ খন্দকার। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি যুদ্ধ ক্ষেত্রের চেয়েও খারাপ। যারা বেঁচে আছেন, সুস্থ আছেন তাদের মধ্যে একটা চরম আতঙ্ক বিরাজমান।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় ফেসবুক লাইভে এ কথা বলেন তিনি।

লাইভে ডা. ফেরদৌসের দেওয়া বক্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

আমি ডা. ফেরদৌস খন্দকার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে বলছি। আজকে আমাকে হয়তো একটু মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেখালেও দেখাতে পারে। চারিদিকে এত মৃত্যুর মিছিল। আর ভালো লাগে না। এতদিন পরিচিতদের মধ্যে অনেককে দেখেছি করোনা হতে। এখন দেখছি, অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি। নিজেদের খুব কাছের মানুষরাও আজকাল শুনতে পাই যে তারা হাসপাতালে ভর্তি। খুব কাছে থেকে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি এক ডাক্তার হিসেবে আমি কখনো দেখিনি আগে। যুদ্ধ ক্ষেত্রের চেয়েও খারাপ। যারা বেঁচে আছেন, সুস্থ আছেন তাদের মধ্যে একটা চরম আতঙ্ক বিরাজমান। আর যাদের একটু সর্দি কাশি হয়েছে তাদের অব্স্থা ত্রাহি ত্রাহি। আর বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব ডাক্তার কলিগ, অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি আছেন এখন। তো যাই হোক। যা বলছিলাম, সবসময় দেখি যে এই মুহূর্তে কারও যদি হঠাৎ যদি জ্বর বা কাশি তৈরি হয়ে যায়। একটা আতঙ্ক তৈরি হয়ে যায়। যতটা না আতঙ্ক রোগ থেকে তার চেয়ে বেশি আতঙ্ক যে মনে মনে বলতে চান আমি কি ধরা খেয়ে গেলাম। আসলে ব্যাপারটি এমন নয়। আর এমন হলেও আসলে কিভাবে ফেস করবেন সেইটি একটু জানা থাকলে আরেকটু ইজি হয়। প্রথম কথা হচ্ছে যদি জ্বর সর্দি হয়, লক্ষণগুলো যদি করোনার মতো হয় কি করবেন?

প্রথম কথা হচ্ছে, কাম ডাউন। রিলেক্স। নিজেকে একটু বলুন যে প্রায়োরিটি কি। ধরুন, আপনার করোনাা হলো। আপনি কি করবেন? ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন তাই তো? অনেক ডাক্তারের অফিস কিন্তু এখন বন্ধ। তাহলে কি করবেন? আসলে এইটার চিকিৎসা এখনও পর্যন্ত ৮০ শতাংশ মানুষ নিজেই করতে পারেন। প্রচুর পানি খাবেন। জ্বর থাকলে জ্বর কমিয়ে রাখবেন। কাশি থাকলে কাশি কমিয়ে রাখবেন। বাসায় কিছু ইউনিভার্স্যাল প্রিকর্শন নিতে হবে যেমন বাসায় যেখানে থাকেন, নিজেকে একটু আইসোলেশনেট করে ফেলুন। কোয়ারেন্টাইনে চলে যান। বাসায় গ্লাবস পরে বসে থাকবেন। মাস্ক পরে বসে থাকবেন। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাথরুমে যাবেন না।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারনে এখন সারা বিশ্বব্যাপি একটি অস্থিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুরো বিশ্বকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাস প্রান কেড়ে নিয়েছে বিশ্বব্যাপি ৩০ হাজার মানুষের। আর এই করোনা আক্রান্ত্রের সংখ্যা এখন ৬ লাখেরও বেশি। যার মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ।


আরো পড়ুন

Error: No articles to display