সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শান্তভাবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বিদেশি ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ার একজন ইমিগ্রেশন অফিসার চেয়ার ছেড়ে উঠে হঠাৎ কষে একটা চড় মারলেন।
তারপর তাকে টানা বকাঝকা করতে করতে জোর করে তার হাতটা স্ক্যানারের ওপর চেপে ধরলেন।

ইমিগ্রেশন সেন্টারে চড় খাওয়া বিদেশি ব্যক্তিটি একজন বাংলাদেশি। তিনি মালয়েশিয়া থেকে ভলান্টারি রিপ্যাট্রিয়েশন বা স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন ৩+১ প্রোগ্রামের অধীনে বাংলাদেশে ফেরত আসার আবেদন করতে উইসমা পারসেকুতুয়ান ইমিগ্রেশন সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানেই একটি কাউন্টারে বসা কর্মকর্তা অপমান করেন তাকে।

গত ৩০ মে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ইমিগ্রেশন অফিসে থাকা আরেক ব্যক্তি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে দেন।

সেখান থেকেই এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। একজন অভিবাসীর সঙ্গে বিরূপ আচরণের জন্য তীব্র নিন্দা জানাতে থাকেন সব স্তরের মানুষ।

ভিডিওটি দেখুন এখানে



ভালো কাজের সুযোগের আশায় বহু বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান প্রতি বছর। অনেকেই সেখানে বহু বছর ধরে আছেন। মালয়েশিয়াতেও বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা অন্য দেশের কর্মীদের চেয়ে অনেক বেশি। কেননা বাংলাদেশিদের সেখানে সবচেয়ে সৎ এবং কর্মঠ কর্মী হিসেবে সুনাম রয়েছে।

আর সেই বাংলাদেশিদেরই প্রায়ই এমন দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় মালয়েশিয়ায়।

ওই কর্মকর্তা কেন সেই বাংলাদেশি অভিবাসীর গায়ে হাত তুলেছিলেন তা নিশ্চিত না হলেও তাকে বরখাস্ত করার খবর নিশ্চিত করেছে জোহর ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক রোহাইজি বাহারি।

বাহারি বলেন, কোনো কর্মকর্তার এরকম আচরণ সহ্য করা হবে না। তাই প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক সেরি মুস্তাফা আলীও এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওই কর্মকর্তার এরূপ আচরণ মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

২০০২ সালে প্রণীত মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি অনুসারে শাস্তি হিসেবে ওই ইমিগ্রেশন অফিসারের বরখাস্তের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। এমনকি তাকে চাকরিচ্যুতও করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুস্তাফা আলী