দেশের আবাসন খাত ৬ বছর ধরে ধুঁকছে। গ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অবিক্রীত রয়ে গেছে ৯০ হাজার ফ্ল্যাট। এক সময় মানুষ সাইনবোর্ড সাঁটানোর পরই বুকিং দিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমানে সাইনবোর্ড তো দূরের কথা, পুরো নির্মাণকাজ শেষ করার পরও গ্রাহকদের আস্থা নেই। বর্তমানে এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা আস্থার সংকট।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসি-আইয়ের সাবেক প্রেডিডেন্ট ও নিটল-নিলয় গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নিটল আয়াত প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
মাতলুব আহ্মাদ বলেন, অবিক্রীত ফ্ল্যাটের সমস্যা সমাধানে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। আমাদের যুবসমাজের ফ্ল্যাটের প্রতি ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমি যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে চাই। আমি নগদে ফ্ল্যাট কিনে তা বাকিতে বিক্রি করছি। বিষয়টি আরও খোলাসা করে বলেন তিনি, আমি নগদে ফ্ল্যাট কিনে গ্রাহকদের কাছে বাকিতে বিক্রি করব। অনেকেই একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই চান।
কিন্তু ব্যাংক তাদের টাকা দিচ্ছে না। আবার নির্মাতারাও আটকে আছেন। তিনি বলেন, যারা ভাড়ায় থাকেন, তাদের দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নতুনভাবে ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের দামের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে রেডি ফ্ল্যাটে বসবাসের জন্য বুঝে নিতে পারবেন। বাকি টাকা ২০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। যারা কিস্তিতে ফ্ল্যাট কিনবেন, তারা বিনা ডাউন পেমেন্টে কিস্তি সুবিধায় টাটার গাড়ি কিনতে পারবেন।
মাতলুব আহ্মাদ আরও বলেন, ঢাকা শহরের অনেক মানুষের স্বপ্ন আছে তার সাধ্যমতো একটা ফ্ল্যাট কেনার। কিন্তু তাদের সাধ্য নেই এককালীন মূল্য পরিশোধ করার। অনেক সময় ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা পরিশোধ করেও বছরের পর বছর রিয়েল এস্টেট কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় ফ্ল্যাট বুঝে নেওয়ার জন্য। এ অসুবিধা দূর করতে সহজ কিস্তিতে ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। যেদিন ফ্ল্যাট কেনার জন্য ফ্ল্যাটের দামের ২০ শতাংশ পরিশোধ করবেন, সেদিনই ফ্ল্যাটের চাবি দেওয়া হয়।
মাতলুব আহ্মাদ জানান, ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাটও কিস্তিতে কেনার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ধরুন আপনি ২০ লাখ টাকা দামের ফ্ল্যাট কিনতে চান; তা হলে আপনাকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। বাকি টাকা ২০ বছরে ২৪০টি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, কিস্তির টাকা প্রতিমাসে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়াও ফ্ল্যাটের দামের ৩ শতাংশ প্রসেসিং ফি এবং ৫ হাজার টাকা আবেদন ফি দিতে হয়। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন।সূত্র-আমাদের সময়।