একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব এসেছে দলটির এক আলোচনা সভায়। এই প্রস্তাব তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
দুই দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন লন্ডনে। দলের প্রধান কারাবন্দি থাকায় তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে থাকা নেতারা এবারের নির্বাচনের নেতৃত্বভাগে ছিলেন।
জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটে থাকলেও বিএনপি নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামসহ কয়েকটি দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। এই ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপি ভোটে অংশ নিলেও আসন পেয়েছে সাকুল্যে ৮টি। এরমধ্যে বিএনপির আসন মাত্র ৬টি। শুরু থেকেই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি।
কিন্তু এমন বিপর্যয়কর ফলাফলের পেছনে নেতৃত্বের ব্যর্থতাও এড়ানোর সুযোগ নেই বলে উঠে আসে শুক্রবারের সভায় নেতাদের বক্তৃতায়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে পুনর্গঠন দরকার। একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী, যারা পরীক্ষিত নেতা-কর্মী, তাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, যারা প্রার্থী ছিলেন, তাদের দায়িত্ব নিয়ে নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মামলা থেকে পরিত্রাণ করা ও জেল থেকে মুক্ত করতে হবে। যেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী ছিল না সেখানে দলের হাইকমান্ডের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের এলাকাছাড়া করে দিয়েছে। কীভাবে নির্বাচন করবো? এখন আমাদের দু’টি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো পুনর্বাসন আর অপরটি পুনর্গঠন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার লাখ লাখ নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন করতে হবে। আর দলের ত্যাগীদের সামনে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর একটি নীল নকশার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কখনোই আমাদের সংবিধানসম্মত নির্বাচন হয়নি। ৯৭ শতাংশ আসনই মহাজোট পেয়েছে। আপনারা যদি নিউইয়র্ক টাইমস পড়েন, ওয়াশিংটন পোস্ট পড়েন, গার্ডিয়ান পড়েন, লন্ডনের অবজারভার পড়েন- সারা দুনিয়ার কেউ বিশ্বাস করে না সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।
সভার সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে। জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণ থেকে একেবারেই তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই নির্বাচন একটা কাজ করেছে, আওয়ামী লীগকে চিরদিনের জন্য মানুষের মন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আলোতে উঠে আসতে হবে। এজন্য এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে।
’আমাদের যেসব ভাইয়েরা পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। আমাদের ভাইদের মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। এই শপথ নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।’
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ হলো সেই দল যারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। জিয়াউর রহমানের ওপর তাদের রাগটা ওই জায়গায়, তিনি দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন।