উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সরকারি কর্মচারীদের গতানুগতিক কাজের বাইরে নিয়ে আসতে চায় সরকার। অর্থাৎ যে যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানেই সংশ্লিষ্ট কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা দেখাতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে আইডিয়া ব্যাংকও।
ধীরে ধীরে এটিকে পুরোপুরি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় পরিচালিত ইনোভেশন টিমের সভায় উদ্যোগগুলোকে বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইনোভেশন টিমের একজন সদস্য জানান, আগে যেমন একজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিসে এসে গতানুগতিক কাজ করে যেতেন; এখন কিন্তু সেসব কাজের বাইরে এসে নতুন নতুন চিন্তা বা আইডিয়াকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।
এক্ষেত্রে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যারা সৃজনশীল আইডিয়া জমা দেবেন সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ভালো মনে হলে জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে সরকার। তাছাড়া যাদের আইডিয়া নির্বাচিত হবে তাদের আর্থিক পুরস্কারসহ ক্রেস্ট ও সনদ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইনোভেশন টিমের সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, ইনোভেশন টিমের সভায় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- বার্ষিক উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, স্বীয় দফতরের সেবায় উদ্ভাবনী ধারণা বা উদ্যোগ আহ্বান বা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কার্যক্রম, ইনোভেশন শোকেসিং, উদ্ভাবনী উদ্যোগ জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তবায়ন, ইনোভেশন মেন্টরিং, স্বীকৃতি বা প্রণোদনা প্রদান, ইনোভেশন খাতে বরাদ্দ, পার্টনারশিপ ও নেটওয়ার্কিং, ইনোভেশন সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদকরণ, ই-সেবা তৈরি ও বাস্তবায়ন, সেবা পদ্ধতি সহজীকরণ, আওতাধীন অধিদফতর-দফতর-সংস্থার ইনোভেশন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ এবং উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন।
সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ ইনোভেশন অফিসার কাজল ইসলাম, এনডিসির সভাপতিত্বে ইনোভেশন টিমের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ বা ধারণাসমূহ আইডিয়া ব্যাংকে জমা রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ সময় সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট আইডিয়া ব্যাংকে ইনোভেটিভ আইডিয়া দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইডিয়া ব্যাংকে ইনোভেটিভ আইডিয়া জমা রাখতে সবাইকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা বিভাগের আইসিটি সেলকে।
এ প্রসঙ্গে সভায় অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা জানান, আইডিয়া ব্যাংকটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে আইডিয়া জমা দিতে গেলে ওই কর্মকর্তাকে একটি অ্যাকাউন্ট করতে হবে। তারপর সেখানে আইডিয়া জমা দিতে হবে। জমা দেয়া আইডিয়া যে কেউ ইচ্ছে করলেই খুলে দেখতে পারবে না। এটি সংশ্লিষ্ট যাচাই কমিটি অথবা প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে একজন করে অ্যাডমিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি মূল্যায়ন পর্যায়ে দেখতে পারবেন। এই ব্যাংক যখন পুরোপুরি চালু হবে তখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও সাধারণও মানুষও আইডিয়া জমা দিতে পারবেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
এছাড়া থাকবে বিদেশে শিক্ষা সফরের ব্যবস্থাও। স্বীকৃতি বা প্রণোদনা বিষয়ে বলা হয়েছে- উদ্ভাবকদের প্রশংসাসূচক উপানুষ্ঠানিকপত্র, সনদপত্র, ক্রেস্ট, পুরস্কার প্রদান, উদ্ভাবকদের দেশে ও বিদেশে শিক্ষা সফর, প্রশিক্ষণ, নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রামে পাঠানো ইত্যাদি বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সূত্র:যুগান্তর