দ্য ফারমার্স ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকটির অডিট কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

রাশেদুল হক চিশতীর পক্ষে জামিন শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।

আদালত তাকে দুই মাসের জামিনের আদেশ দেন বলে জানান দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ’রাশেদুল হক চিশতি অসুস্থ, তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। এজন্য তার পক্ষে জামিন আবেদন করে আসামিপক্ষ। আদালত তাকে দুই মাসের জামিন দিয়েছেন। এরপর আর জামিন বর্ধিত করা হবে না বলে আদালত বলেছেন।

২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল গুলশান থানায় মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকটির গুলশান করপোরেট শাখার প্রাক্তণ ব্যবস্থাপক ও বর্তমান সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ব্যাংকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী গুলশান শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের ও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখার মোট ২৫টি হিসাবে বেশিরভাগ অর্থ নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

হিসাবগুলোতে গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিং এর মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং নিজেদের নামে ক্রয়কৃত ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।

উৎসঃ পরিবর্তন