প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার দফতর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী এস এম শাহজাদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন— প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়ের মায়ের প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছেন। প্রেসক্রিপশন দিয়েই চলে যাচ্ছেন। আর কোনো কাজ ছিল না।
সোমবার সন্ধ্যায় বের হয়ে যাবার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন— একেবারে ব্যক্তিগত কাজে এসেছি আমি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়ের মা অসুস্থ। তার ওষুধ কেনার জন্য প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছি। কারণ স্থানীয় এলাকায় এই ওষুধ পাওয়া যায় না। প্রেসক্রিপশন দিয়েই চলে এসেছি। আর কোনো কাজ ছিল না।

আপনি একজন বৈধ প্রার্থী তাহলে ইসিতে কেন আসলেন এর জবাবে তিনি বলেন, আমি আজই ঢাকায় এসেছি। সেখান থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছি, সেটা কিভাবে দিব এখানে না আসলে?

আপনি এর আগেও এখানে এসেছিলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’সেটাতো অনেক আগে, সেটা তো এখন না, সেটা তফসিলের আগে।

আপনি কি সিইসি মহোদয়ের কাছে কোনো সহযোগিতা চেয়েছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। এটা তারা যেভাবে আছে সেই নিয়মেই চলবে। এতে আমার সহোযোগিতা চাওয়ার কি আছে।

আপনি সিইসির ভাগনে এক্ষেত্রে তিনি কি বিব্রত হয়েছেন, আপনার প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তার কোনো সম্মতি ছিল কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বরেন, না। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো কথা হয় নি। নির্বাচন আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

সে কী করছে? আমি কোথায় কী করছি? এটাতো খোঁজ রাখার ব্যাপার না। আমি তো তার পরিবারের অংশ না। আমি আত্মীয়, কিন্তু তার পরিবারের অংশ না।

নির্বাচনে আসা নিয়ে সিইসির পক্ষ থেকে কোনো বাধা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

তার সম্মতি ছিল কিনা নির্বাচন কমিশনে আপনার আসার ব্যাপারে? না, এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। একজন নাগরিকের নির্বাচন করা। আমি তাই করেছি। আমি নিজে স্বাবলম্বী। তাই যেভাবে চলার সেভাবে চলি।

জয়ের ব্যাপারে কতখানি আশাবাদী আপনি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক সুন্দর। আমি শতভাগ আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে। আমার এলাকায় যেতে যে পথটা ২০ মিনিট লাগে, সে পথটা যেতে সাড়ে তিন ঘন্টা আমার লেগেছে। আমি পথটুকু হেঁটে গিয়েছি, মানুষ রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

তিনি বলেন, পরিবর্তন মানুষের মনের ভেতরে আছে, তারা পরিবর্তন চায় সেটা আমি সিইসির ভাগনে বলে না। মানুষের চাওয়া ছিল। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে দেশটা পরিচালিত হয়। আর আমার এলাকার মানুষ যেন ভাল থাকে যে জন্য আমি কাজ করবো।

উল্লেখ্য, ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি সোমবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।poriborton