সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য বছরে সব দিনই গুরুত্বপূর্ন। তবে বেশ কয়েকটি অধিক গুরুত্বপূর্ন দিন রয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি যে গুরুত্বপূর্ন সময় তা হলো ’হজ’। ইসলামের পাচঁটি স্তম্বের মধ্যে এটি একটি। আর সেই কারনে বিশ্বের সব মুসলিমদের জন্য বিশেষ করে আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবানদের ওপর হজ অবশ্য পালনীয় একটি বিধান। তবে যাদের হজ্জে অথবা ওমরায় যাওয়ার সামর্থ্য ও সক্ষমত নেই, তাদের জন্যও দয়াবান আল্লাহ এমন কিছু পথ বের করে দিয়েছেন; যেগুলো দ্বারা দুর্বল বান্দারা মকবুল হজ্জের অথবা ওমরাহর সওয়াব পেয়ে যেতে পারে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সেসব রকমারি পথ বা আমল বাতলিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন হাদিসে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

এর মধ্যে একটি হচ্ছে- মাতা-পিতার সেবা এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। নবীজি প্রশ্ন করলেন, তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন? লোকটি বলল, আমার মা জীবিত। প্রত্যুত্তরে নবীজি বললেন, তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট জিহাদে যেতে না পারার অপারগতা বা ওজর পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ্জ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর। (মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৩৩৯৯) হায়সামি (রহ.) বলেন, হাদিসটি সহিহ।

আর একটি বিষয় আছে যা এই করোনার প্রেক্ষাপটে মিলে যায়। তা হচ্ছে- হাসান আল-বসরি (রহ.) বলেন, ’তোমার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বারবার হজ করার থেকে উত্তম।’ অর্থাৎ এই ভাই বলতে অন্য মানুষের উপকারের কথা বলা হয়েছে। আমরা এটা নিশ্চই জানি যে- হজ আল্লাহ তায়ালার খুব বড় একটি হুকুম। ইসলামের মূল পাঁচ স্তম্ভের একটি। যার পক্ষে সম্ভব জীবনে একবার হজ করা ফরজ। এরপর নফল হজ আরো করা যায়। ওমরা করা যায়। রমজানে ওমরা করা নবী করিম সা. এর সাথে হজ করার সমান। কিন্তু এ হজ ও ওমরা সচেতনভাবে বুঝে শুনে ক’জন করতে পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ’মানুষের ওপর আল্লাহর হক এই যে, তাদের মধ্যে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যেন আমার ঘরে আসে।’

প্রিয় নবী সা. বলেছেন, ’কবুল হজ মানুষকে এমন করে দেয়, যেমন সে মায়ের পেট থেকে নিষ্পাপ হয়ে জন্মেছিল।’তিনি আরো বলেন, ’এক ওমরা থেকে আরেক ওমরা এর মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।’অপর হাদিসে তিনি এও বলেছেন, ’সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ করল না, সে ইহুদি হয়ে মরুক বা নাসারা হয়ে মরুক (এ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই)।’তবে নিষ্পাপ নবজাতকের মতো হওয়ার জন্য ইসলাম বহু পথ খোলা রেখেছে। সবসময় তাওবা ইস্তেগফার করা, এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, রমজানের রোজা ও তারাবি, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ইত্যাদিও গুনাহ মুক্তির পথ।

এ দিকে করোনার কারনে বিশ্বব্যাপি মুসলমানদের জন্য এবারের হজ একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে আছে। বিশেষ করে সৌদিতেও বেড়েছে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ। যার ফলে বেশ কিছুদিন আগে সৌদি সরকার সল্প পরিসরে হজ অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা বলে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display