ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তার নিরাপত্তারক্ষীরা জড়িত। বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির লাইভে এসে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
সুবীর ভৌমিক বলেন, আমার ৩৭ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে তো ঘাস কেটে সাংবাদিক হইনি। রিপোর্ট সত্য এবং কলকাতা থেকে বসে ডাবল চেক করেই নিউজ করেছি। উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিবিসিকে এই নিউজ না দেয়ার কারণ হচ্ছে আমি এখন বিবিসিতে কর্মরত নই, তারপরও মাঝে মাঝে লিখি। আমি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট যে সূত্রের কাছ থেকে নিউজ পেয়েছি তা নির্ভরযোগ্য। এটা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন কেন তুলছেন।
সুবীর ভৌমিক আরো বলেন, কলকাতায় বসেই আমি সবার আগে বাংলাদেশে অনুপ চেটিয়া গ্রেফতার হয়েছে। ৫ দিন আগেই আমি বিডিনিউজকে এই নিউজ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা প্রকাশ করেনি। পরে বাপ বাপ বলে নিউজ নিয়েছে।
সুবীর ভৌমিক কলকাতা থেকে টেলিফোনে একাত্তর টিভির উপস্থাপিকা ফারজানা রূপার প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই সংবাদটি তিনি মিয়ানমারকে থেকে নয়, কলকাতায় বসে কয়েকবার চেক করেই করেছেন। এই ষড়যন্ত্রের সাথে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জাড়িত। তাদের জেনারেলরা এখন কেন চুপ। বিবিসিতে কাজ করার সুবাদে আমি ৬ টা ভাষা জানি। বাংলা ও হিন্দি যেমন ভালো বলতে পারি এবং বুঝি, ঠিক তেমনি উর্দুও বুঝি। আমার নিউজ শতভাগ সত্যি।
একই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশীদ বলেছেন, আইএসআইয়ের তৎপরতা রয়েছে এবং এই হত্যা ষড়যন্ত্রের গভীরে কারা জড়িত তা উদঘাটনের জন্যই এ ঘটনা গোপন রাখা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সুবীর ভৌমিক একজন ভারতীয় চিন্তাবিদ এবং গবেষক। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্‌স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এ কর্মরত। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সংবাদদাতা হিসেবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইন এলিজাবেথ হাউস ফেলো তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র কি জেনে গিয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের খবর?
যুক্তরাষ্ট্র কি জেনে গিয়েছিল ২৪ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের খবর? ২৫ আগস্ট ১১ টা ৩৮ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র ললিত কে ঝা’র রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র দফতর জানায়, বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চললেও মার্কিনিদের হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। জানা যায়, ২৪ আগস্ট থেকে এই ভ্রমণ সতর্কতা জারি হবে। ইতোমধ্যে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করা ঢাকায় থাকার অনুমতি পাচ্ছেন। আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঢাকা থেকে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। এর আগে শুধুমাত্র মার্কিন সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত নাগরিকরাই ঢাকায় থাকতে পারতেন।
এখন এটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। যেকোনও ধরনের সহযোগিতার জন্য মার্কিন দূতাবাস খোলা থাকবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়, ’বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনী আইএস, আল-কায়েদাসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’ তারপরও বারবার হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মার্কিন দূতাবাস তাদের সকল নাগরিকদের কিছু কঠোর নিয়ম-কানুনের আওতায় এনেছেন। এই নিয়মের আওতায় মার্কিন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার এখন পায়ে হেটে, সাইকেল, মোটরসাইকেল কিংবা রিকশাতে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
এছাড়া কোনও খোলা জায়গায় এবং রাস্তার পাশে চলাচলও করতে পারবেন না। এছাড়া বাংলাদেশের জনবহুল কোনও স্থান ও অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের নিষেধ করা হয়েছে। গত মার্চে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুইটি আত্মঘাতীয় বোমা হামলার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া সিলেটে একটি হামরায় সাতজন নিহত হন। গত বছর হলি আর্টিজানে হামলার পর এটাই উল্লেখযোগ্য ঘটনা। হলি আর্টিজানে হামলায় এক মার্কিন নাগরিকসহ ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এক হুমকিতে জঙ্গিরা জানায়, প্রবাসী, পর্যটক, কূটনীতিক, মিশনারি ও খেলার দলগুলোই তাদের টার্গেট। বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোতেই হামলা চালাবে তারা।
পুর্বপশ্চিম
bangla.moralnews24

News Page Below Ad