'বড় কারো হুকুমে এ ঘটনাগুলো সংগঠিত হচ্ছে':এমাজউদ্দীন রাবির ছেলে তরিকুল এবং তেজগাঁ কলেজের মরিয়ম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেনি। শেখ হাসিনার পদত্যাগ করার দাবি করেনি। পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত খরচ নিয়ে প্রশ্ন করেনি। বাংলাদেশ থেকে ৭৬ লাখ কোটি টাকা কোথায় পাচার হয়েছে সেই প্রশ্ন করেনি। সীমান্তে ফেলানী, কুমিল্লার তনু হত্যার বিচারের দাবি করেনি। তাহলে তরিকুলের পা ভেঙে দেয় ছাত্রলীগ, এবং এক দল শকুন মরিয়মকে কি করেছে সেটা বাস্তব চিত্র দেখেছেন দেশের সবাই। ছাত্রলীগ লাঞ্চিত করার পরে শাহাবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে এবং ২৭ ঘন্টা পরে ছেড়ে দেয়। আমার মনে হয় বড় কারো হুকুমে এই ঘটনাগুলো সংগঠিত হচ্ছে।
কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলাপকালে আমাদের অর্থনীতি এ কথা বলেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন ।
তিনি বলেন, হাজার হাজার বিরোধী কর্মির ক্রস ফায়ার গুম নিয়ে কোটা আন্দোলন কারীরা কোন প্রশ্ন করেনি। ভারতের ১০ লাখ লোক প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায় কেন তারা সেই প্রশ্ন করেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ঘাটে পানি জমে যায় কেন সেই প্রশ্ন করেনি। আন্দোলনকারীরা ৫৭ ধারা ভংগ করে জাতির পিতার পরিবার নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেনি। তাহলে তাদের উপর হামলা করার কারণ কী? দেশের আইনশৃঙ্খলার এতো অবনতি কোন সরকারের আমলে হয় নি । আমার মনে হয় দেশে আইন নেই, আইন থাকলে ছাত্রলীগ কেন আন্দোলন কারীদেরকে এমন লাঞ্চিত করবে? দেশের মানুষ অনিরাপত্তার মধ্যে সময় পার করছে ।
তিনি আরও বলেন, ছেলেটার দাবিতে ক্ষমতাসীনদের অবমাননাকর কোন কিছু ছিল না। সে শুধু কোটা প্রথার সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়। আর তাতেই ছাত্রলীগ পশুর মতো ঘিরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই আন্দোলনের কারণে ছেলেটির পা ভেঙে দেওয়া হলো । তার পা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়,এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না । ছেলেটির সুস্থ হতে মিনিমাম এক বছর লাগবে। আজীবনেও সুস্থ মানুষের মত হাঁটতে পারবে কিনা সন্দেহ। সূত্র:amadershomoy